জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘চাঁদাবাজির রাজনীতি নয়, ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ চাই। চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের রাজনীতির অবসান চায় জামায়াত। গত ৫ আগস্টের পর একটি দলের চাঁদাবাজি জনগণকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। আমরা এ দেশে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসের রাজনীতি দেখতে চাই না।’
গতকাল চাঁদপুরে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সকাল ১০টায় হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। চাঁদপুর শহর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট শাহজাহান খানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বিগত সরকারের সময় আমরা দেখেছি, কীভাবে একটি ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য প্রশাসন ও পেশিশক্তিকে ব্যবহার করেছে। তারা চিরদিন ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন দেখেছিল; কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, জুলুম ও অন্যায়ের পরিণতি কখনো ভালো হয় না। একসময় তাদের এক কাপড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে।’
চাঁদপুরের রাজনীতি প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এ জেলা দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নের রাজনীতির পরিবর্তে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকেন্দ্রিক রাজনীতির শিকার হয়েছে। নদীমাতৃক এ জেলায় ভাঙন, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও উচ্চশিক্ষা নিয়ে জনগণের যে ন্যায্য দাবি, তা বারবার অবহেলিত হয়েছে।’
চাঁদপুরের মানুষ এখন আর প্রতিশ্রুতির রাজনীতি চায় না, তারা জবাবদিহিমূলক ও নৈতিক নেতৃত্ব চায় উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আগামী দিনে চাঁদপুরের রাজনীতি হবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার রাজনীতি, যেখানে জনপ্রতিনিধি হবে জনগণের সেবক, মালিক নয়।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় গেলে জোটের সবাইকে নিয়ে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলব। জনগণই হবে সব ক্ষমতার মালিক। বর্তমানে একজন প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী, দলের প্রধান ও জাতীয় সংসদের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন; যা ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট করে। জামায়াতে ইসলামী চায়, প্রধানমন্ত্রী যেন দলীয় প্রধান না হন। এতে প্রশাসনে স্বচ্ছতা আসবে, দুর্নীতি কমবে এবং রাষ্ট্র শক্তিশালী হবে।’










