পটুয়াখালীর পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সড়কের তিন কিলোমিটারে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি রয়েছে ১৫টি। নিয়ম অনুযায়ী সড়ক থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে খুঁটি স্থাপনের কথা থাকলেও এখানকার চিত্র ভিন্ন। কুয়াকাটা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের এলজিইডি রেস্ট হাউজ থেকে হিড বাংলা সড়কের মাঝেই রয়েছে পাঁচটি খুঁটি। এগুলো অপসারণে পৌর প্রশাসন বিভিন্ন সময় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছে। তবে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ চিঠির কোনো প্রতি উত্তর কিংবা খুঁটি সরানোর কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে দাবি করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন পৌর প্রশাসকের পরিকল্পনায় পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণে কুয়াকাটাকে যানজটমুক্ত ও নান্দনিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। নগরের অধিকাংশ রাস্তাঘাট নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে অপরিকল্পিতভাবে স্থাপন করা পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি দুর্ঘটনার শঙ্কা তৈরি করছে। খুঁটিগুলো অপসারণে ১৩ মার্চ পৌর প্রশাসন থেকে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়ে একটি চিঠি দেয়া হয়। যদিও তারা চিঠির জবাব বা খুঁটি সরানোর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

এ প্রসঙ্গে পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম মো. আবুল কাশেম বলেন, ‘পৌরসভা থেকে আমাদের চিঠি দেয়ার পর এস্টিমেট করে চিঠি পাঠিয়েছি। তবে তারা টাকা জমা দেয়নি। এজন্য আমরা কোনো সহযোগিতা করতে পারছি না। যদি নিতান্তই তাদের ফান্ড না থাকে, তবে তারা আমাকে চিঠি দিলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাবে।’

পৌরসভার বাসিন্দারা জানান, ১৫-২০ ফুট রাস্তার দুই পাশে পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও মাঝেই বসানো হয় খুঁটি। নগর উন্নয়নের কাজ চলাকালীন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা খুঁটি অপসারণে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান। কিন্তু খুঁটি সরাতে খরচের অজুহাত দেখিয়ে তারা সেটি আমলে নেয়নি। পরিকল্পিতভাবে রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ করার পরও বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো আগের জায়গায় রয়ে গেছে, যা এখন জনদুর্ভোগ ও যানবাহন চলাচলের বাধা সৃষ্টি করছে। সম্প্রতি খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লেগে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনাও ঘটেছে।

ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় সময় পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি বরাবর ভ্যান পার্কিং করায় চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হয়। কিছুদিন আগে খুঁটির কারণে দুর্ঘটনায় এক নারী পর্যটকের পা ভেঙে যায়।’

এ ব্যাপারে কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ইয়াসিন সাদেক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পর্যটন নগরী কুয়াকাটা পৌরসভাকে আরো নান্দনিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নতুন নতুন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। রাস্তার মধ্যে বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো পৌরসভার গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। খুঁটি অপসারণে এরই মধ্যে আমরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে জানিয়েছি। এ ব্যাপারে তারাই কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং নান্দনিক পৌরসভা গড়তে সহযোগিতা করবে।’