নীলফামারী, নাটোর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মুন্সিগঞ্জ ও শেরপুরে পৃথক ছয়টি সড়ক দুর্ঘটনায় নয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শনিবার রাত থেকে গতকাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে—
নীলফামারী: জেলার ডিমলা উপজেলায় ট্রলির ধাক্কায় মো. রফিকুল ইসলাম (৫৫) নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষক নিহত হয়েছেন। গতকাল সকালে উপজেলার সটিবাড়ি বাজারের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় সঠিবাড়ি বাজারের কাছে একটি দ্রুতগতির ট্রলি তাকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফজলে এলাহী বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। নিহতের স্বজনরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকেই তার মরদেহ দাফনের জন্য নিয়ে গেছেন।’
কক্সবাজার: জেলার টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ সড়কে কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন একজন। গতকাল দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন টেকনাফের সাবরাং কাটাবনিয়ার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম (২২) ও কক্সবাজার শহরের সমিতি পাড়ার আব্দুর রব (২৫)। বিষয়টি নিশ্চিত করে টেকনাফ থানার ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুর জানান, ‘দুজনের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহতের চিকিৎসা চলছে।’
চট্টগ্রাম: জেলার মিরসরাইয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ড ভ্যানের পেছনে দ্রুতগামী বাসের ধাক্কায় একজন নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম মোহাম্মদ মুরাদ (২৫)। তিনি বাসের হেলপার ছিলেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন নয়জন। গতকাল ভোরে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাপাহাড় এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মুরাদ কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং মুসলিমপাড়ার জামাল হোসেনের ছেলে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা সৌদিয়া পরিবহনের একটি এসি বাস ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দক্ষিণ সোনাপাহাড় এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ড ভ্যানকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই বাসের হেলপার মুরাদ নিহত হন। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত নয়জন। তাদের উদ্ধার করে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়।
মুন্সিগঞ্জে: জেলার সিরাজদিখান উপজেলায় এক্সপ্রেসওয়েতে বিকল মুরগিবাহী পিকআপের পেছনে ধাক্কা দিয়ে প্রাইভেট কারের এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রাইভেট কারের চার যাত্রী। গতকাল সকাল পৌনে ৬টার দিকে উপজেলার কুচিয়ামোড়া সেতু এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম রবিউল ইসলাম (৪৩)।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক্সপ্রেসওয়ের কুচিয়ামোড়া সেতু এলাকায় ঢাকামুখী একটি মুরগিবাহী পিকআপ দাঁড়িয়ে ছিল। সকাল পৌনে ৬টার দিকে একটি প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিকআপের পেছনে ধাক্কা দেয়। এ ঘটনায় প্রাইভেট কারের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। আহত হন প্রাইভেট কারের পাঁচ আরোহী। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করেন।
নাটোর: জেলার লালপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ভ্যানচালকসহ দুজন নিহত হয়েছেন। শনিবার রাতে উপজেলার চিনিবটতলা মোড় ও বিলমাড়িয়া কয়লার ডহর এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—লালপুর ইউনিয়নের বালিতিতা ইসলামপুর (মহেশপুর) গ্রামের মৃত দুখু কসাইয়ের ছেলে ভ্যানচালক এরশাদ আলী (৪০) এবং বিলমাড়িয়া মোহরকয়া গ্রামের মৃত ফজল আলীর ছেলে বাবলু আলী (৬০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ১২টার দিকে লালপুর-বাঘা মহাসড়কের চিনিবটতলা মোড়ে রাজশাহীগামী একটি মাইক্রোবাস ভ্যানচালক এরশাদ আলীকে ধাক্কা দিলে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পরে পুলিশ ঘাতক মাইক্রোবাসসহ চালক হারুন অর রশিদকে গ্রেফতার করে।
অন্যদিকে রাত সোয়া ৯টার দিকে বিলমাড়িয়ার কয়লার ডহর এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল বাবলু আলীকে ধাক্কা দেয়। এতে বাবলু আলী, নুর আলম ও অজ্ঞাত এক নারী আহত হন। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে গুরুতর আহত বাবলু আলী ও নুর আলমকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। পথে রাজশাহীর বানেশ্বর এলাকায় রাত ১০টার দিকে বাবলু আলী মারা যান।
শেরপুর: জেলার দুটি পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত ও অন্তত কয়েকজন আহত হয়েছেন। শনিবার রাতে শেরপুর-ঝিনাইগাতী সড়কের বাজিতখিলা কুমড়ি এলাকায় বাস, মাহিন্দ্র ও অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষে আহসান (৩৫) নামে একজন নিহত হন। এ সময় আহত হন পাঁচজন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এছাড়া শেরপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের নকলা উপজেলার বাদাগৈর মোড়ে রাস্তা পারাপারের সময় মমতাজ নামের এক নারীকে চাপা দেয় একটি যাত্রীবাহী বাস। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনাগুলো তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন শেরপুরের পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম।










