রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পৃথক ছয়টি প্রজ্ঞাপনে গতকাল তাদের বরখাস্তের আদেশ দেয়া হয়।
বরখাস্ত ছয় কর্মকর্তা হলেন ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, একই পদমর্যাদার কর্মকর্তা সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন, ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক ডিসি কাজী আশরাফুল আজীম, কক্সবাজার এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস ও ডিএমপির সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. গোলাম রুহানী।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির সদয় অনুমোদন ও বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) পরামর্শক্রমে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধান অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এতে আরো বলা হয়, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন অ্যান্ড গোয়েন্দা-দক্ষিণ) বিপ্লব কুমার সরকার বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত থাকা অবস্থায় ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে কোনো ধরনের লিখিত বা মৌখিক অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তদন্তে তার বিরুদ্ধে ‘পলায়নের’ অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় ওই তারিখ থেকেই তার বরখাস্ত কার্যকর করা হয়েছে। সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অতিরিক্ত ডিআইজি) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বরিশাল রেঞ্জে সংযুক্ত থাকা অবস্থায় ২২ আগস্ট ২০২৪ থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। একাধিক নোটিস দিয়েও তাকে কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় তাকেও একই তারিখ থেকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক উপপুলিশ কমিশনার কাজী আশরাফুল আজীমকে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে বদলি করা হলেও তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি। ১৪ আগস্ট ২০২৪ থেকে অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত থাকার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়নের’ অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় ওই তারিখ থেকেই বরখাস্তের আদেশ কার্যকর করা হয়েছে। ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপপুলিশ কমিশনার এবং পরে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন ২৮ আগস্ট ২০২৪ থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তদন্তে তার বিরুদ্ধেও ‘পলায়ন’ ও ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় তাকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস কক্সবাজারের ৮ এপিবিএনে কর্মরত অবস্থায় পাঁচদিনের নৈমিত্তিক ছুটি শেষে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ কর্মস্থলে যোগ দেয়ার কথা থাকলেও আর ফিরে আসেননি। টানা ৬০ দিনের বেশি অননুমোদিত অনুপস্থিত থাকায় তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে ‘পলায়ন’ ও ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ প্রমাণ হয়। ওই তারিখ থেকেই তার চাকরিচ্যুতি কার্যকর করা হয়েছে। সহকারী পুলিশ কমিশনার (পিপিএম) মো. গোলাম রুহানী ডিএমপি থেকে খাগড়াছড়ির এপিবিএনে বদলি হওয়ার পর ১১ আগস্ট ২০২৪ থেকে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি। তদন্ত ও বিপিএসসির পরামর্শের ভিত্তিতে ১১ আগস্ট ২০২৪ থেকে কার্যকর করে তাকেও বরখাস্ত করা হয়েছে।










