ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় জনবল সংকট থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না রোগীরা। এছাড়া হাসপাতালে সরকারি চারটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে তিনটি অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। যে অ্যাম্বুলেন্সটি ভালো আছে, তাও প্রায় সময়ই ত্রুটিপূর্ণ থাকায় জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করা যায় না অভিযোগ রোগীদের।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত তিন বছর অ্যানেস্থেসিয়া কনসালট্যান্ট পদটি খালি রয়েছে। অপারেশন সেবা চালু হলেও আয়া, ওয়ার্ড বয়, ক্লিনার ও দারোয়ানসহ পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদ শূন্য থাকায় সেবা নিতে রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মাত্র দুজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কাজ করানো হচ্ছে, যা দিয়ে পুরো হাসপাতালটি পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

শায়লা আক্তার নামে এক রোগী অভিযোগ করেন, বেশির ভাগ সময় হাসপাতালে চিকিৎসক পাওয়া যায় না। দিনের বেলায় চিকিৎসক থাকলেও রাতের বেলায় পাওয়া যায় না।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যা থেকে ২০২২ সালে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। তবে বাস্তবে ১০০ শয্যার কোনো কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় ৫০ শয্যায় চলছে চিকিৎসাসেবা।

এদিকে নোংরা পরিবেশের কারণে হাসপাতাল ভবনের দেয়াল ও ছাদেও নানা জাতের আগাছা গজিয়ে উঠেছে। এতে দেয়াল ফেটে যাওয়ার উপক্রম। দেয়াল বেয়ে পানি পড়ে। হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সসহ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের কোয়ার্টারগুলোও পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে, যা বসবাসের অনুপযোগী।

আনারুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি জানান, হাসপাতালের ভেতরে-বাইরের পরিবেশ খুব খারাপ। টয়লেটগুলোর অবস্থা আরো খারাপ। দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় এগুলোর অবস্থা এতই খারাপ যে টয়লেট ব্যবহার করলে রোগীরা আরো অসুস্থ হয়ে পড়বে। এছাড়া হাসপাতালের লাইটগুলো নষ্ট থাকায় রাতে ভূতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুর রশীদ জানান, পাঁচজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী থাকার কথা, সেখানে মাত্র দুজন। সবকিছু যথাসময়ে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এখানে মাস্টাররোলে কয়েকজন লোক কাজ করছে। এছাড়া হাসপাতালে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা তিনটি অ্যাম্বুলেন্স ও জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।