বৈশাখ থেকে আশ্বিন—ছয় মাস ইলিশের ভরা মৌসুম। কাগজ-কলমের হিসাব অনুযায়ী মৌসুমের অর্ধেক প্রায় শেষ হতে চলেছে। বিগত বছরগুলোর এ সময়টাতে রাজবাড়ীর যমুনা ও পদ্মা নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা পড়লেও এবারের চিত্র ভিন্ন। নদীর মোহনায় জাল ফেলেও দেখা মিলছে না ইলিশের। এতে বিপাকে পড়েছেন মৎস্যজীবীরা। অনেকেই পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

জেলেরা বলছেন, স্বাদ বিবেচনায় গোয়ালন্দের ইলিশের খ্যাতি রয়েছে। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে বর্ষাকাল। এ সময় পদ্মা ও যমুনার মোহনায় ইলিশের অবাধ বিচরণের কথা। কিন্তু এ বছর পদ্মায় ইলিশের দেখা নেই বললেই চলে। দিনের পর দিন জাল ফেলেও হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে।

পাবনার জেলে হাসান বিশ্বাস বলেন, ‘গত বছর বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই যে পরিমাণ ইলিশ মাছ ছিল, এবার তার কিছুই নেই। রাতভর নদীতে জাল ফেলেও নৌকার খরচ উঠছে না। অনেকেই আগে ইলিশ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু নদীতে তেমন মাছ না থাকায় তারা খেত-খামারে কাজ করছেন।’

ধীরেন হালদার নামে অন্য এক জেলে বলেন, ‘ইলিশের পাশাপাশি এবার অন্যান্য মাছও তেমন একটা পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা ছয়জন নিয়ে একটি নৌকায় মাছ শিকার করি। এক-দুই সপ্তাহ পর বাড়ি ফিরে যাই। এ পরিস্থিতিতে খালি হাতেই গিয়ে পরিবারের কাছে দাঁড়াতে হচ্ছে। নদীতে মাছ যদি না পাই, তাহলে আমাদের সংসার কীভাবে চলবে? ছোটবেলা থেকেই নদীতে মাছ শিকার করে দিন পার করলাম। অন্য কোনো কাজও জানি না। তাই দিনের পর দিন লোকসানের মুখে পড়েও এ পেশায় পড়ে আছি।’

আব্দুল কুদ্দুস হাওলাদারসহ পাঁচ-সাত জন মিলে পদ্মায় ইলিশ শিকার করেন। তিনি বলেন, ‘নদীতে এখন মাছ নেই বললেই চলে। জাল ফেলে দুই একটি ছোট ইলিশ ধরা পড়লে আবার মৎস্য বিভাগের অভিযানের মুখে পড়তে হয়। ৯ ইঞ্চি একটি ইলিশ মানে ৫০০ গ্রামের ওপরে হতে হয়। নদীতেও মনে হয় এমন সাইজের মাছ পাওয়া যাবে না। বাধ্য হয়ে জাল গুছিয়ে রেখেছি। আর কিছু জাল মেরামত করছি।’

এ ব্যাপারে রাজবাড়ী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ইলিশ সাধারণত গভীর পানির মাছ। পদ্মা নদীতে অসংখ্য ডুবোচর সৃষ্টি হয়েছে। আর নাব্য সংকট থাকায় ইলিশের বিচরণ কিছুটা কমে গেছে। নাব্য ফিরিয়ে আনা গেলে এ এলাকায় ইলিশের অবাধ বিচরণ নিশ্চিত করা যাবে।’