ভারি বৃষ্টি ও উজানের ঢলে ইছামতি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে যশোরের শার্শা উপজেলার সীমান্তবর্তী পাঁচটি ইউনিয়নের ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। প্রায় দেড় মাস ধরে এসব ইউনিয়নের অন্তত দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। ঘরের ভেতর পানি ঢুকে পড়ায় অনেকে আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছে। আউশ ধান ও গ্রীষ্মকালীন সবজিখেত পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় আক্রান্ত ইউনিয়নগুলোর প্রতিটি ওয়ার্ডে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের প্রথম থেকে টানা বর্ষণসহ ভারত থেকে নেমে আসা পানিতে উপজেলার বাগআঁচড়া, কায়বা, উলাশী, গোগা ও পুটখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়েছে। এছাড়া এসব ইউনিয়নের কয়েকটি আঞ্চলিক সড়কের বেশ কয়েকটি স্থান ডুবে থাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার রুদ্রপুর, কায়বা, ভবানিপুর, গোগা, আমলাই, সেতাই, বসতপুর, কন্যাদাহ, পুটখালী, খলসি, বারোপোতা গ্রামের মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে পানি উঠেছে। প্রায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ঘরে টিকতে না পেরে অনেকে আশ্রয় কেন্দ্রে ছুটছে।
বাগআঁচড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহরিয়ার মাহমুদ রঞ্জু বলেন, ‘ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে পানি ঢুকেছে। এর মধ্যে ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে ৫০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। দুটি আশ্রয়কেন্দ্রে পাঁচটি পরিবার উঠেছে। এসব পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার দেয়া হচ্ছে।’
উলাশী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আব্দুর রাশেদ জানান, ইউনিয়নের কন্যাদাহ, রামেরডাঙ্গা ও নারানতলা গ্রামের প্রায় ২৫০টি পরিবার দেড় মাস ধরে পানিবন্দি। এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। এসব গ্রামের মানুষের জীবন প্রায়ই অচল হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে আশ্রয় কেন্দ্রে ১৫-২০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। সরকারিভাবে তাদের খাদ্যসহায়তা দেয়া হচ্ছে। আরো সহযোগিতার জন্য প্রশাসনের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে। পানি বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।
গোগা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ফারুক হোসেন বলেন, ‘ইউনিয়নটিতে প্রায় ১ হাজার ৩০০ পরিবার পানিবন্দি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর রাখাসহ ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে।’
সর্বাংহুদা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে দেখা গেছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ প্রায় ১৫০টি ঘর, রঘুনাথপুর, ঘিবা, ধান্যখোলা, বোয়ালিয়াসহ আরো কয়েকটি গ্রামের কয়েকশ পরিবার পানিবন্দি রয়েছে।
সর্বাংহুদা গ্রামের ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি জিয়াউর রহমান জানান, ভারি বর্ষা ও ভারতীয় পানি আসায় বন্যা সৃষ্টি হয়েছে। সর্বাংহুদাসহ কয়েকটি গ্রাম বন্যাকবলিত হলেও এখন পর্যন্ত সরকারি সহায়তা পাওয়া যায়নি।
শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা জানান, উপজেলায় ৪০০ হেক্টর আউশ ধান ও গ্রীষ্মকালীন সবজি পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। ৬০০ হেক্টর জমি পানির নিচে থাকায় রোপা আমন চাষ হবে না। পানি আরো বাড়লে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. কাজী নাজিব হাসান বলেন, ‘আগে থেকেই পানিবন্দি এলাকার স্কুলগুলো আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা ছিল। উলাশী, বাগআঁচড়া ও কায়বা ইউনিয়নের আশ্রয় কেন্দ্রে কয়েকটি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। তাদের মাঝে উপজেলা প্রশাসন শুকনো খাবার ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছে। বন্যাদুর্গতদের ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খবর রাখা হচ্ছে। তাদের সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে। সর্বাংহুদা, রঘুনাথপুর, ঘিবা, এলাকার মানুষ প্রতি বছরই পানিবন্দি হয়ে পড়ে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আপাতত ১৬ টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে।’










