খুলনায় মিষ্টি আলুর আবাদ বেড়েছে। চলতি মৌসুমে জেলায় ১৫৯ হেক্টর জমিতে ফসলটির আবাদ হয়েছে, যা থেকে ৭৩৮ টন আলু উৎপাদনের আশা রয়েছে। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি জমিতে মিষ্টি আলু আবাদ হয়েছে সুন্দরবন উপকূলীয় উপজেলা কয়রায়। মিষ্টি আলুর চাষ বাড়াতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠকর্মীরাও কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, ফসলটি পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এবং উচ্চফলনশীল। এছাড়া লবণসহিষ্ণু ও অল্প খরচে অধিক লাভ হওয়ায় খুলনা অঞ্চলে এর চাষ বেড়েছে।

খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘মিষ্টি আলু পুষ্টিকর খাদ্য। সাধারণত বেলে-দোঁআশ মাটিতে মিষ্টি আলুর চাষ ভালো হয়। চাষের উপযুক্ত সময় অক্টোবর-নভেম্বর। বীজ রোপণের ১৫০-১৬০ দিন পর আলু তোলার উপযোগী হয়। মিষ্টি আলুর তেমন রোগবালাই নেই। এতে লেদা পোকার আক্রমণ হয়, যা থেকে পরিত্রাণে অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়।’

কয়রা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকায় মিষ্টি আলু চাষ বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।  কয়রা উপজেলায় ১০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ১৩ গুণ বেশি আবাদ হয়েছে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় মিষ্টি আলুর উৎপাদন খরচ কম। বাজারদরও ভালো।’

কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নে কৃষক আব্দুস সালাম শেখসহ কয়েকজন জানান, এটি লবণসহিষ্ণু। কয়রা উপজেলা লবণাক্ত হওয়ায় কৃষি অর্থনীতির জন্য সম্ভাবনাময়। উৎপাদন খরচ কম, লাভ বেশি এবং রোগবালাই কম হওয়ায় কৃষক মিষ্টি আলু চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।