সিরাজগঞ্জে টানা ১০ দিনের শৈত্যপ্রবাহ ও কুয়াশায় মারা যাচ্ছে মৌমাছি। এতে বিপাকে পড়েছেন সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মৌচাষীরা। তারা জেলাজুড়ে প্রায় ২০ হাজার মৌ বাক্স স্থাপন করলেও কনকনে ঠাণ্ডায় মৌমাছি বাক্স থেকে বের হতে পারছে না। এ অবস্থায় এবার সিরাজগঞ্জে মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না-ও হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ বছর  ৫০ হাজার ৫৭৫ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে ৫৬ হাজার ৯৮০ হেক্টরে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এসব সরিষা ক্ষেতের পাশে ১৯ হাজার ৫৫১টি মৌ বাক্স স্থাপন করেছেন মৌচাষীরা। এ থেকে এবার ২৫০ টন মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে ৪০ টন বেশি। কিন্তু এবার মৌসুমের শুরুতে প্রতিকূল আবহওয়ার কারণে মধু সংগ্রহে সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে মৌমাছি মারা যাওয়ায় এবং বাক্স থেকে বের হতে না পারায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।

সিরাজগঞ্জে বর্তমানে অবস্থান করছেন সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, যশোর ও নাটোরের মৌচাষীরা। তারা মধু সংগ্রহের জন্য সিরাজগঞ্জে থাকবেন সাত-আট সপ্তাহ। এ বিষয়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের হরিনগর গ্রামের ইয়াছিন আলী বলেন, তিনি প্রতি বছরই সিরাজগঞ্জে সরিষা ক্ষেত থেকে মধু সংগ্রহ করেন। এ বছর তিনি তাড়াশের সগুনা ইউনিয়নে ২০০টি মৌ বাক্স স্থাপন করেছেন। কনকনে ঠাণ্ডার কারণে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে তিনি তার বাক্সগুলো পাটের বস্তা ও গরম কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখেছেন। শীতে প্রতি দিনিই মৌমাছি মারা যাচ্ছে, বাক্স থেকে বের হতে পারছে না। ফলে মধু সংগ্রহও সম্ভব হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে তিনি এবার লোকসানে পড়বেন।

জেলা মৌচাষী সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদ বলেন, সিরাজগঞ্জে এখন মধু সংগ্রহের মৌসুম চলছে। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মৌচাষীরা মৌ বাক্স স্থাপন করলেও তারা এখনো তেমন মধু সংগ্রহ করতে পারেননি। এ অবস্থায় জেলায় প্রায় ২৫০ টন মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়া নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। মূলত প্রায় দুই সপ্তাহের টানা শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশাই মধু সংগ্রহের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মৌমাছি মারা যাচ্ছে। 

তিনি আরো বলেন, দেশের মধুর চাহিদার বেশ বড় একটি অংশ জোগান দেয়া হয় সিরাজগঞ্জে আহরিত মধু থেকে। এখান থেকে প্রতি কেজি মধু  ২৫০-৩০০ টাকায় কিনে নেয় এপি ও প্রাণসহ বিভিন্ন কোম্পানি। এছাড়া সাধারণ মানুষও প্রচুর মধু কেনে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. হাবিবুল হক বলেন, সিরাজগঞ্জে সরিষার সঙ্গে সঙ্গে মধুর উৎপাদনও বাড়ছে। তাছাড়া মৌমাছির মাধ্যমে পরাগায়নে সরিষার ফলনও ভালো হয়। চলতি বছর জেলায় ১৯ হাজার ৫৫১টি মৌ বাক্স বসানো হয়েছে। এ বছর এখানে অন্তত ২৫০ টন মধু সংগ্রহ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ঘন কুয়াশা ও শীতের কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কিছুটা ব্যাহত হতে পারে।