লক্ষ্মীপুরে পৃথক দুইটি পর্নোগ্রাফি মামলায় ২৪ জনকে ৫ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেকের পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়। একই মামলার কপিরাইট আইনে এদের প্রত্যেকের ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। বুধবার (১২ জুলাই) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত সবাই লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। তারা লক্ষ্মীপুর পৌর সুপার মার্কেট, নিউ মার্কেট ও মজুচৌধুরীর হাট এলাকার কম্পিউটার ও মোবাইল অ্যাক্সেসারিজের দোকানী ও কর্মচারী। রায়ের সময় ২১ জন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বাকী তিনজন পলাতক রয়েছেন। এর আগে তারা জামিনে ছিলেন। লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জসিম উদ্দিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন থেকে লক্ষ্মীপুর পৌর সুপার মার্কেট, উত্তর স্টেশনের নিউ মার্কেট ও সদর উপজেলার মজু চৌধুরী হাট এলাকায় কম্পিউটারে পর্নোছবি, বিভিন্ন শিল্পীদের অশ্লীল ভিডিও গান, সদ্য মুক্তি পাওয়া বাংলা ছায়াছবির কপি রাইট করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল একটি চক্র। এমন অভিযোগে ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই ওই তিন স্থানে যৌথ অভিযান চালায় র্যাব ও অ্যান্টি পাইরেসি ট্রান্সপোর্স।
এ সময় পর্নোগ্রাফিতে ব্যবহৃত কম্পিউটার ও বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারসহ ২৫ জনকে আটক করা হয়। পরে আসামিদের সদর থানায় হস্তান্তর করে র্যাব। পরে এন্টি পাইরেসি ট্রান্সপোর্স এর তখনকার অপারেশন অফিসার এম আর আলম বাদী হয়ে সদর থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। একটি মামলায় ১৩ জন এবং আরেকটিতে ১২ জনকে আসামি করা হয়।
মামলা দুটি তদন্ত করেন সদর থানার সেই সময়ের উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রতিভা রানী বর্মন। তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ২১ সেপ্টেম্বর এক মামলায় ১১ জন এবং অন্য মামলায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তিনি। আদালত সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে পৃথক এ দুই মামলার আজ বুধবার এ রায় দেন।










