বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডাব্লিউটিও) চুক্তিগুলোয় বিদ্যমান কাঠামোগত বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, বৈশ্বিক বাণিজ্যে ন্যায্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংস্থার কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সদস্যদেশগুলোর সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করা সময়ের দাবি।
সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন ২৭ মার্চ বাণিজ্যমন্ত্রী বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কার বিষয়ক দিনব্যাপী বিভিন্ন আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ, উন্নয়ন ও সমতাভিত্তিক বাণিজ্য ব্যবস্থা সংক্রান্ত সেশনে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ডাব্লিউটিওর সংস্কার প্রক্রিয়া অবশ্যই সংস্থাটির মৌলিক নীতিমালা—স্বচ্ছতা, অন্তর্ভুক্তিমূলকতা ও ন্যায্যতার ওপর ভিত্তি করে হতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ নীতিগুলোর প্রতি প্রতিশ্রুতি বজায় রাখাই বহুপক্ষীয় বাণিজ্য ব্যবস্থায় আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখার মূল চাবিকাঠি। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সংস্কার প্রক্রিয়া সবার জন্য ভারসাম্যপূর্ণ ও উন্নয়নমুখী ফলাফল নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান বিশ্বে বাণিজ্য বিভাজন, একতরফা পদক্ষেপ এবং অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে ডাব্লিউটিও একটি নিয়মভিত্তিক বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থার জন্য এখনও প্রাসঙ্গিক, গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশ এই ব্যবস্থার প্রতি তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
সিদ্ধান্ত গ্রহণ বিষয়ক আলোচনায় বাংলাদেশ ঐকমত্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ পদ্ধতির গুরুত্ব তুলে ধরে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ পদ্ধতি স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে এবং এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত করে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ নীতির কোনো ধরনের অবক্ষয় বিদ্যমান বৈষম্য আরো বাড়িয়ে দিতে পারে।
উন্নয়ন বিষয়ক আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থানের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ডাব্লিউটিও সংস্কার থেকে অবশ্যই বাস্তব ও দৃশ্যমান ফলাফল আসতে হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত প্রতিশ্রুতি, বিশেষ করে বিশেষ ও পৃথক সুবিধা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এমসি-১৪-এর ফলাফল ভবিষ্যৎ সংস্কার প্রক্রিয়ার জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উন্নয়নমুখী দিকনির্দেশনা প্রদান করবে। বাংলাদেশ আগামী দিনগুলোতেও ডাব্লিউটিও প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাবে।










