চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায় ১৯৮৩ সালে। পরের বছর অর্থাৎ ১৯৮৪ সালে নাচোল, কসবা, ফতেপুর ও নেজামপুর ইউনিয়ন গঠিত হয়। ২৮৩ দশমিক ৬৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ উপজেলায় জনসংখ্যা ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬৭২ জন। বিপুল এ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় কসবা, ফতেপুর ও নেজামপুর ইউনিয়নে স্থাপন করা হয় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র। তবে তা শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। বাস্তবে এসব স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কোনো ভৌত অবকাঠামো নেই।

স্থানীয়রা বলছেন, সাধারণত উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে স্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকার কথা। যেখানে একজন করে মেডিকেল অফিসার ও স্যাকমো থাকবেন। কিন্তু নাচোল উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে এমন কোনো কেন্দ্র না থাকায় মানুষ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। চিকিৎসার জন্য উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে গিয়ে আর্থিক চাপ বাড়ছে, যা গরিব মানুষের জন্য বড় বোঝা। দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নগুলোয় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণ না হওয়ায় বিপাকে পড়ছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। দ্রুত সময়ের মধ্যে ইউনিয়নগুলোয় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

কসবা ইউনিয়নের বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, ‍‘আমাদের এলাকায় কোনো উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নেই। চিকিৎসা নিতে যেতে হয় উপজেলা সদরে। ফলে ওষুধ কেনার সঙ্গে যাতায়াত ভাড়ার চাপও বাড়ে। দ্রুত সময়ের মধ্যে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে এমনটিই আশা করছি।’

এ বিষয়ে নাচোল উপজেলার ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘কাগজ-কলমে উপজেলার নেজামপুর, ফতেপুর ও কসবা ইউনিয়নে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো অবকাঠামো নির্মাণ হয়নি। এ তিন সাবসেন্টারে মঞ্জুরীকৃত পদের সংখ্যা দুটি করে মোট ছয়টি। তবে নেজামপুর ও ফতেপুর ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে কোনো জনবল নেই। শুধু কসবা ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে রয়েছেন দুজন।’

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, উপজেলায় তিনটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে। তবে এসব সরকারি প্রতিষ্ঠানের কোনো অবকাঠামো নেই। এর মধ্যে দুটিতে জনবল নেই। একটিতে থাকলেও অবকাঠামো না থাকায় তারা বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, এসব প্রতিষ্ঠানে মেডিকেল অফিসার ও স্যাকমো দিয়ে মোট মঞ্জুরীকৃত পদের সংখ্যা ছয়টি। কিন্তু ফতেপুর ও নেজামপুর ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে কোনো জনবল না থাকলেও শুধু কসবা ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ওইসব পদে ছয়জনের বিপরীতে রয়েছেন দুজন। স্থাপনা না থাকায় তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বসে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন একেএম শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘কাগজ-কলমে নাচোল উপজেলায় তিনটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে। কিন্তু এসব সরকারি প্রতিষ্ঠানের কোনো অবকাঠামো নেই। এর মধ্যে দুটি জনবলশূন্য। আরেকটিতে থাকলেও তারা বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ওইসব জায়গায় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়নি। আগামীতে ওই ইউনিয়নগুলোয় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হবে। বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাত বিষয়ে বেশ তৎপর। আশা করছি দ্রুতই সংকট নিরসন হবে।’