যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা বাঁওড়ের নির্মিত সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ শেষ হয়েছে এক মাস আগে। এর মধ্যেই ধসে পড়েছে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কটি। এতে বাঁওড়ের উত্তর পারে কোমলপুর অংশের প্রায় ১০০ মিটার রাস্তা সম্পূর্ণভাবে ডেবে যায়। ফলে ঝাঁপা ও কোমলপুর গ্রামের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থায় অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, মণিরামপুরের ঝাঁপা বাঁওড়ের ওপর নতুন সেতু নির্মাণ করা হয়। ১ কোটি ৯২ লাখ ৮ হাজার ২১১ টাকা ব্যয়ে ১৩ দশমিক ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয় গত বছরের মে মাসে। প্রকল্পের আওতায় সেতুর দুই পারে ৫২৩ মিটার সংযোগ সড়কে হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) ইটের সলিং বসাতে ৩৫ লাখ ৬৬ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। ঝিনাইদহের কাঞ্চননগর এলাকার ঠিকাদার নিশীত বসু নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করেন। সেতু নির্মাণ শেষ হলেও ভারি বর্ষণে বাঁওড়ে পানি বেড়ে যাওয়ায় প্রায় সাত মাস সংযোগ সড়কের কাজ বন্ধ ছিল। পরে পানি কমে গেলে গত নভেম্বরের শেষ দিকে সেতুর দুই পাশে মাটি ফেলে সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করা হয়, যা মাসখানেক আগে শেষ হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নতুন সেতুটি আগের তুলনায় উঁচু হওয়ায় পুরনো সড়ক নিচু হয়ে পড়ে। ফলে সেতুতে ওঠার জন্য দুই পাশে মাটি ফেলে সড়ক উঁচু করে ইটের সলিং বসানো হয়। কিন্তু মাটি সঠিকভাবে বসার সুযোগ না দিয়েই তড়িঘড়ি করে সলিং বসিয়ে সড়কটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়। যানবাহন চলাচলের ফলে সড়কটি ধসে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের যথাযথ তদারকির অভাব এবং ঠিকাদারের গাফিলতির কারণেই নতুন সড়কটি এত দ্রুত ধসে গেছে।
কোমলপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার খালেদুর রহমান টিটু বলেন, ‘বাঁওড়ের ভেতরে মাটি ফেলে রাস্তা উঁচু করে সলিং বসানো হয়েছে। মাটি বসার সুযোগ না দেয়ায় রাস্তা ধসে গেছে। মাটির পরিবর্তে বালি ব্যবহার করলে হয়তো এমনটি হতো না।’
তবে ঠিকাদার নিশীত বসু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘কাজে কোনো অনিয়ম করা হয়নি। বরং লোকসান দিয়েই সেতু ও সংযোগ সড়কের কাজ করেছি। রাস্তা ধসে যাওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি, কিন্তু সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ খুঁজে পাইনি।’
ঝাঁপা বাঁওড়ের ওপর নির্মিত সেতু ও সংযোগ সড়কের কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা মণিরামপুর উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান বলেন, ‘১৯ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে সড়ক ধসে যাওয়ার খবর পেয়েছি। ধসের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে।’










