কক্সবাজার শহরে ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী পুরনো একটি পুকুর ভরাট করে দখল করে নিচ্ছে প্রভাবশালী একটি মহল। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণের জন্য অবৈধভাবে এ ভরাট কাজ চালাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এক সপ্তাহ ধরে পরিবেশবিরোধী এ কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার শহরে গত কয়েক বছরে জমির দাম বেড়ে যাওয়ায় বিডিআর ক্যাম্প এলাকায় সাচী চৌধুরীপাড়া মসজিদের ঐতিহ্যবাহী পুরনো পুকুরের দিকে দৃষ্টি পড়ে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের। বাণিজ্যিক দোকান নির্মাণের জন্য স্থানীয় কামরুল হুদা ও গিয়াস উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র মাটি দিয়ে এ পুকুর ভরাটের কাজ চালাচ্ছে।
সরেজমিন ঘুরে ও অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিজিবি ক্যাম্প চৌধুরীপাড়া এলাকায় বিজিবি ক্যাম্প টু সিকদারপাড়া সড়কের পাশে সাচী চৌধুরীপাড়া মসজিদের পুকুরটির অবস্থান। আরএস মূলে পুকুরটির আয়তন ২ একর ২১ শতক হলেও বিএস রেকর্ডে তা হয়ে যায় ১ একর ৫৩ শতক। ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী পুরনো এ পুকুরের উত্তর ও পশ্চিম অংশে ভরাটকাজ চালাচ্ছে প্রভাবশালীরা। আগে দিন-দুপুরে ভরাট করা হলেও কয়েকদিন ধরে রাতের আঁধারে পার্শ্ববর্তী পিএমখালী এলাকা থেকে পাহাড় কাটার মাটি দিয়ে এ ভরাট কাজ চালাচ্ছে। কিন্তু দখলদাররা প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় সাধারণ লোকজন প্রতিবাদ করলে তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয় বলে প্রতিবাদকারীদের অভিযোগ।
অভিযোগ অস্বীকার করে কামরুল হুদা বলেন, এটি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি হওয়ায় যাতায়াতের জন্য সামান্য ভরাট করা হচ্ছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক কামরুল হাসান বলেন, অভিযোগ পেয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পুকুরটি পরিদর্শন করে দখলের সত্যতা পাওয়া গেছে। কয়েক দিনের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে এ বিষয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হবে। এরপর বিভাগীয় কার্যালয় থেকে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান
আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একটি টিম পাঠিয়ে পুকুর ভরাটকাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং মসজিদ কমিটির লোকজনকে পুকুরের কাগজপত্র অফিসে জমা দেয়ারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।










