৩২১ কোটি টাকা ব্যয়ে যশোর-খুলনা মহাসড়কের ৩৮ কিলোমিটার নতুনভাবে নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে ২০২১ সালের জুনে। সড়কটির নির্মাণকাজ চলাকালে আট কিলোমিটার ফুলেফেঁপে ওঠে। এখন সড়কের সাড়ে ১৬ কিলোমিটারে আবারো ১৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে কংক্রিটের কাজ শুরু করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর। এরই মধ্যে চার কিলোমিটার সড়কে ৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে কংক্রিটের কাজ করা হচ্ছে। বাকি কাজ করার জন্য প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সড়কটিতে সরকারের মোট ব্যয় হচ্ছে ৪৮১ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, যশোর শহরের মুড়লীর মোড় থেকে নওয়াপাড়া এ সাড়ে ১৬ কিলোমিটার পর্যন্ত মহাসড়কে উঁচু-নিচু অবস্থার সৃষ্টি হয়। নতুনভাবে নির্মাণ করা হলেও মহাসড়কের বেহাল দশা কাটেনি। যে কারণে সওজ বিভাগ উঁচু-নিচু সাড়ে ১৬ কিলোমিটারে কংক্রিট ঢালাই দিতে উদ্যোগী হয়েছে। এরই মধ্যে চার কিলোমিটার রাস্তায় কংক্রিট ঢালাইয়ের কাজ চলমান। বাকি রাস্তার কাজ করার জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬০ কোটি টাকা।

যশোর-খুলনা মহাসড়কের উন্নয়নকাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের মে মাসে। ২০২১ সালের জুনে কাজ শেষ করা হয়। উন্নয়নকাজ চলমান থাকাবস্থায় আট কিলোমিটার সড়ক ফুলেফেঁপে ওঠে। এতে যানবাহন চলাচল করে ঝুঁকি নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, নিম্নমানের কাজ করার কারণে এমনটি হয়েছে। তবে সওজ বিভাগ যশোরের কর্মকর্তারা জানান, তীব্র তাপ ও গাড়ির ওভারলোডের কারণে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ফুলেফেঁপে উঠছে। কী কারণে এটি হচ্ছে সেজন্য পরামর্শক নিয়োগ করেন তারা।

সওজ সূত্র জানায়, যশোর-খুলনা মহাসড়কের ৩৮ কিলোমিটার উন্নয়নে ৩২১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। কাজের শুরুতেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়ক উন্নয়নের এ কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দরপত্রের কোনো নিয়মনীতি মানেনি। তারা গোঁজামিল দিয়ে ইচ্ছামতো কাজ করেছে।

যশোর বাস মালিক সমিতির সভাপতি বদরুজ্জামান বাবলু বলেন, ‘নতুন নির্মিত হওয়া সড়কে এমন ফুলেফেঁপে ওঠা কখনো দেখিনি। সওজের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আঁতাত করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কের কাজে অনিয়ম করার কারণে এমনটি হয়েছে। এতে আমাদের গাড়ির ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি ঝুঁকি বেড়েছে।’

যশোর নাগরিক অধিকার আন্দোলনের উপদেষ্টা মাসুদুর রহমান বলেন, ‘যশোর-খুলনা মহাসড়কে নিম্নমানের কাজ করার কারণে উঁচু-নিচু অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে সরকারের ব্যয় বেড়েছে।’

এদিকে যশোর শহরের পালবাড়ী মোড় থেকে নিউ মার্কেট পর্যন্ত রয়েছে উঁচু-নিচু ঢেউ। মহাসড়কের এ ৪ দশমিক ৪ কিলোমিটার নতুনভাবে নির্মাণ করার জন্য ৪৫১ কোটি টাকার প্রস্তাব পাঠিয়েছে সওজ। প্রস্তাবটি পাস হলে মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত হবে। একই সঙ্গে  লেনের দুটি ব্রিজ নির্মাণ করা হবে।

শহরের কাজীপাড়ার বাসিন্দা রওজক হাসান বলেন, ‘পালবাড়ী থেকে উপশহর বাবলাতলা ব্রিজ পর্যন্ত মহাসড়কে রয়েছে উঁচু-নিচু অবস্থা। এতে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চলাচল বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।’

সওজ যশোরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আরিফ মাহমুদ বলেন, ‘সড়কের মাটির সমস্যা রয়েছে। যে কারণে সাড়ে আট কিলোমিটার সড়কে উঁচু-নিচু অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ওই সড়কে মোট সাড়ে ১৬ কিলোমিটার জায়গায় সমস্যা থাকায় আমরা কংক্রিট ঢালাই দিয়ে নির্মাণ করতে চাচ্ছি। এরই মধ্যে চার কিলোমিটার সড়কে কংক্রিট ঢালাইয়ের কাজ চলমান। পর্যায়ক্রমে বাকি সড়কেও কংক্রিট ঢালাই করা হবে।’

এদিকে পালবাড়ী থেকে মণিহার সড়কটি চার লেনের করা হবে। ৪ দশমিক ৪ কিলোমিটার সড়কে নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫১ কোটি টাকা। এর মধ্যে জমি অধিগ্রহণে ব্যয় হবে ১৫১ কোটি টাকা। সড়কে দুটি চার লেনের ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। বাবলাতলা ও বারান্দারীপাড়ায় ব্রিজ দুটি করা হবে। নতুনভাবে নির্মাণকাজ শুরু হলে ওই সড়কে কেটে যাবে উঁচু-নিচু অবস্থা। একই সঙ্গে যশোর-মাগুরা সড়কের ৪৮ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ২২ কিলোমিটার উন্নয়ন করার জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২২ কোটি টাকা। বাকি সড়কের কাজ সওজ মাগুরা বিভাগ করবে।

এ ব্যাপারে সওজ বিভাগ যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘যশোর-খুলনা মহাসড়কে যে উঁচু-নিচু অবস্থা ছিল সেটি উত্তরণে কংক্রিট করা হচ্ছে। চার কিলোমিটার সড়কে কাজ চলমান। বাকিটাও পর্যায়ক্রমে করা হবে। এতে ব্যয় হবে ১৬০ কোটি টাকার মতো। যশোর শহরের পালবাড়ী থেকে নিউ মার্কেট সড়কের উঁচু-নিচু অবস্থা কেটে যাবে যদি বরাদ্দ পাওয়া যায়। পালবাড়ী থেকে মণিহার পর্যন্ত চার লেনে করার প্রস্তাব আমরা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। আশা করা যায় এটি পাস হবে।’