বগুড়ার চার উপজেলার সড়ক যোগাযোগের মাধ্যম ফতেহ আলী সেতু প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। ২০১৮ সালে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার প্রায় পাঁচ বছর পর পুনর্নির্মাণে ভিত্তিফলক স্থাপন করা হয়েছে। 

গত ২২ মে করতোয়া নদীর ওপর সেতু পুনর্নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন বগুড়া-৬ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু।

বগুড়া জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়, ফতেহ আলী সেতু দিয়ে পূর্ব বগুড়ার তিন উপজেলার মানুষ বগুড়া সদরে যাতায়াত করে। পূর্ব বগুড়ার তিন উপজেলা এবং জেলা সদর উপজেলা নিয়ে চারটি উপজেলার সরাসরি সংযোগ স্থাপনে করতোয়া নদীর ওপর ফতেহ আলী সেতুটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পূর্ব বগুড়ার তিন উপজেলার মানুষের সঙ্গে জেলা সদরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে ১৯৬২ সালে করতোয়া নদীর ওপর ৬৮ মিটার দীর্ঘ ফতেহ আলী সেতু নির্মাণ করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। সে সময় সেতুটি নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছিল ২০ লাখ টাকা। নির্মাণের নয় বছর পর মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সেতুটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্বাধীনতার পর সেতুটি মেরামত করে জনসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয়। পরে ভারি যানবাহন চলাচলে সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়। এ কারণে ২০১৮ সালে ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ঘোষণার প্রায় পাঁচ বছর পর এর পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। ৬৯ মিটার দৈর্ঘ্য আর ১২ দশমিক ৩ মিটার প্রশস্ত এ সেতুর দুই পাশে আড়াই মিটার করে ফুটপাত থাকবে। দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক স্থাপত্যের ছোঁয়া রয়েছে এ সেতুর নকশায়।  সেতুটি পুনর্নির্মাণ হলে বগুড়া শহরের সৌন্দর্য বাড়বে। চারটি উপজেলার উৎপাদিত কৃষিপণ্য সহজে বাজারজাত সম্ভব হবে। 

বগুড়া সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে এ সেতু নির্মাণে ২২ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হলেও এখন ব্যয় কমে ১৯ কোটি ৮৩ লাখে নেমেছে। ২০২১ সালে সেতুটি নির্মাণে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়। পরে সেতুটির নকশা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়। ২০২২ সালের ৩১ জুলাই সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় সেতুটির নকশা ও অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। এক বছরের মধ্যে সেতুটির পুনর্নির্মাণ কাজ শেষ করা হবে। সড়ক বিভাগ থেকে সেতুটির নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানকে সে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’ 

বগুড়া-৬ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপ বলেন, ‘পূর্ব বগুড়ার লাখো মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল দৃষ্টিনন্দন ফতেহ আলী সেতু নির্মাণ করা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেটি বাস্তবায়ন করেছেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সারা দেশে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। বিশ্বের অনেক দেশ বাংলাদেশকে মডেল হিসেবে দেখতে শুরু করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় বগুড়াও পিছিয়ে নেই।’