তিনি বলেছেন, ‘দেশের শিল্প ও অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নের জন্য শুধু অর্থ উপার্জনের সুযোগ সৃষ্টি করলেই হবে না, প্রয়োজন টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলা।’
গতকাল ঢাকা ক্লাবে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ (এফইআরবি) আয়োজিত ‘জ্বালানি খাতে সংকট: সম্ভাবনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘এলএনজি অবকাঠামোর ক্ষেত্রে কোনো একটি স্থাপনায় দুর্ঘটনা ঘটলে যাতে সারা দেশের শিল্প-কারখানায় এর নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এলএনজি সরবরাহে সম্ভাব্য সংকট মোকাবেলায় বিকল্প ব্যবস্থা এবং সময় নির্ধারণের বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘শিল্প-কারখানাগুলো যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। শিল্পোদ্যোক্তা, বুদ্ধিজীবী ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের পথ খোঁজা হচ্ছে।’
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। জ্বালানি খাতের সংকট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক প্রয়োজন।’
সেমিনারে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, কক্সবাজারে মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি পুরো সক্ষমতায় ফেরাতে, সেটি আবার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হবে। তিনি বলেন, ‘এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত এফএসআরইউতে সমস্যার কারণে দেশে গ্যাস সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। দেশী ও বিদেশী বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় টার্মিনালটির কার্যক্রম আংশিকভাবে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। এর একটি অংশ এখন চালু রয়েছে। তবে অন্য অংশটি এখনো পুরোপুরি সচল হয়নি। দ্বিতীয় অংশটি সচল করতে গেলে বর্তমানে চলমান অংশটিও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হবে।’
কোন সময়ে টার্মিনালটি বন্ধ রাখলে শিল্প, বিদ্যুৎ ও অন্য গ্রাহকের ওপর সবচেয়ে কম প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি। এদিকে দেশে নতুন ও বড় পরিসরের এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে একটি বিদেশী বেসরকারি উদ্যোক্তা গোষ্ঠী আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানান জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এফইআরবির চেয়ারম্যান এম আজিজুর রহমান।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘উদ্যোক্তা গোষ্ঠীটির প্রতিনিধিরা সরকারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তারা বড় পরিসরে এলএনজি টার্মিনাল করতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। সরকার তাদের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব চেয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রস্তাব পাওয়ার পর তা পরীক্ষা করে দেখা হবে।
বর্তমান গ্যাস সংকটের প্রেক্ষাপটে এলএনজি গ্রহণ ও সরবরাহের অবকাঠামো বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও সেমিনারের আলোচনায় উঠে আসে।’ একটি নতুন এফএসআরইউ প্রকল্প নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানির প্রকল্প সরাসরি অনুমোদন করা হয়নি।
সরকার নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, প্রকল্পটি সরকার পর্যায়ে বা জিটুজি পদ্ধতিতে করা হবে। এ পদ্ধতিতে সরকার অন্য দেশের সরকার বা সরকার-সমর্থিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি কাজ করে।’
তিনি বলেন, ‘প্রথমে যারা আগ্রহ দেখিয়েছিল, তাদের মধ্যে জিটুজি পদ্ধতিতে যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এরপর একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা ধরে প্রক্রিয়া এগোনো হয়েছে।’










