ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিত্ব।
ওসমান হাদির মৃত্যুতে শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। শোকবার্তায় তিনি বলেন, আধিপত্যবাদ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে শরিফ ওসমান হাদির সংগ্রামী ও সাহসী ভূমিকা এ দেশের তরুণদের জন্য চিরদিন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। শহিদ ওসমান হাদি সমাজে ইনসাফ প্রতিষ্টার অকুতোভয় যোদ্ধা ছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে সমাজ ও দেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শোক বার্তায় তিনি লেখেন, আমি শরিফ ওসমান হাদির মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে গভীরভাবে শোকাহত। আল্লাহ যেন তার রুহের মাগফিরাত করে তাকে বেহেশত নসীব করেন। তার এ অকাল শহীদি মৃত্যু আবারও মনে করিয়ে দিল- রাজনৈতিক সহিংসতা কত বড় মানবিক মূল্য দাবি করে।
হাদি ছিলেন এক সাহসী রাজনৈতিক কর্মী এবং নির্ভীক কণ্ঠস্বর, যিনি সব সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে তিনি জুলাইয়ের যোদ্ধাদের অধিকার রক্ষা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধরে রাখা এবং জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় অসাধারণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
আমি তার শোকাহত পরিবার, স্বজন ও সহযোদ্ধাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। একই সঙ্গে অন্তবর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, দ্রুত তদন্ত করে অপরাধীদের গ্রেফতার, শাস্তি এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে আর কোনো ঘটনা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে না পারে বা আমাদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে আঘাত না করে।
আর বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে বলা হয়, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র, ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি’র মৃত্যুতে আমরা গভীর শোকাহত।
হাদির মৃত্যুর পর পৃথক শোকবার্তায় এনসিপি জানায়, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র, গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত জাতীয় নাগরিক কমিটির অন্যতম সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি আজ সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
আমাদের এ সহযোদ্ধার মৃত্যুতে এনসিপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা গভীরভাবে শোকাহত। আমরা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।
শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। শোকবার্তায় তিনি বলেন, শরিফ ওসমান হাদির অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে দেশ এক সাহসী কণ্ঠস্বরকে হারালো। প্রধান বিচারপতি ও বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়েছে।
শরিফ ওসমান হাদীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। শোকবার্তায় তিনি শরিফ ওসমান হাদির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু দেশ ও সমাজের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি। তার স্মৃতি সহপাঠী, শুভানুধ্যায়ী ও সংশ্লিষ্ট সকলের হৃদয়ে চিরদিন অম্লান হয়ে থাকবে।
এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবি পার্টি। শোকবার্তায় দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, জাতি আজ একজন আধিপত্যবিরোধী, সাহসী ও নিবেদিতপ্রাণ তরুণ লিডারকে হারাল। তার মৃত্যুতে জাতির যে অপূরণীয় ক্ষতি হলো, তা কখনোই পূরণ হওয়ার নয়। শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন একজন ন্যায়নিষ্ঠ, স্পষ্টবাদী ও দেশপ্রেমিক মানুষ। সমাজ ও রাজনীতিতে তার দায়িত্বশীল ভূমিকা, দৃঢ় অবস্থান এবং গণমানুষের প্রতি অগাধ ভালোবাসা তাকে এক ব্যতিক্রমী নেতৃত্বে পরিণত করেছিল।
তারা আরো বলেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তার চিন্তা-চেতনা, আদর্শ ও সংগ্রামী জীবন আগামী প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। অল্প সময়ের মধ্যেই জুলাই আন্দোলনের এই অকুতোভয় নেতা মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় স্থান করে নেন এবং ইনকিলাব মঞ্চকে একটি জাতীয় আন্দোলনের রূপ দিয়ে যান।
তারা বলেন, শরীফ ওসমান হাদীর শাহাদাত শুধু তার পরিবার বা নিকটজনদের জন্য নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তার মতো একজন প্রতিভাবান তরুণ নেতৃত্ব হারিয়ে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তার অবদান ও স্মৃতি আমাদের চলার পথে চিরকাল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
এর আগে ওসমান হাদির মৃত্যুর বিষয়টি তার ও ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে জানানো হয়। বলা হয়, ভারতীয় আধিপত্যবাদের মোকাবিলায় মহান বিপ্লবী ওসমান হাদিকে আল্লাহ শহীদ হিসেবে কবুল করেছেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের পরিচিত মুখ ওসমান হাদি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার জন্য প্রচার চালাচ্ছিলেন। গত শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট সড়কে তাকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। এরপর তাকে নেয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসা শেষে রাতেই এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়। সেখানেই মারা যান তিনি।










