জেলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) হূদরোগের উন্নত চিকিৎসা নেই। ৭৮ জন জনবল চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চাহিদাপত্র পাঠানোর পর ২৮ পদে অনুমোদন মিললেও এক বছরেও সে জনবল দেয়া হয়নি। বাকি ৫০টি পদের অনুমোদনেও সাড়া মিলছে না। উন্নত চিকিৎসার অভাবে প্রতিনিয়ত ঝরে যাচ্ছে অনেকের প্রাণ। হূদরোগ পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজনীয় সব যন্ত্রপাতিই নষ্ট। ইকো মেশিনটি সচল থাকলেও দেড় বছরের বেশি সময় ধরে রোগীদের ইকো করা হয় না। প্রয়াজনীয় পরীক্ষার জন্য ছুটতে হচ্ছে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে করোনারি কেয়ার ইউনিটের তিনতলা ভবন নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। ২০০৬ সালের ১২ অক্টোবর নিজস্ব জনবল ছাড়াই উদ্বোধন হয় যশোর করোনারি কেয়ার ইউনিট। কিন্তু জনবলের অভাবে বন্ধ ছিল চিকিৎসা কার্যক্রম। ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ২৪ জন চিকিৎসক, ৫৬ জন নার্স ও ১৪৩ জন কর্মচারী নিয়োগের চাহিদাপত্র পাঠায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে। নানা সংকটের মধ্যে ২০০৯ সালের ১২ জুলাই যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জনবল দিয়েই শুরু হয় চিকিৎসা কার্যক্রম। সেই থেকে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে বিভাগটি।

২০২০ সালে ৭৮ জন জনবল চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়। অনুমোদন মেলে ২৮ পদের। বাকি পদে জনবল সৃষ্টির ব্যাপারে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে হাসপাতালের প্রশাসনিক বিভাগ নিশ্চিত করেছে।

বর্তমানে ১২ পদের বিপরীতে মাত্র দুজন চিকিৎসক কর্মরত। এছাড়া যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের কার্ডিওলজি কনসালট্যান্ট ও মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক চিকিৎসকরা বাড়তি দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু যন্ত্রপাতির অভাবে তারা রোগীদের উন্নত চিকিৎসা প্রদানে ব্যর্থ হচ্ছেন। প্রাথমিক ব্যবস্থাপত্রে সুস্থ না হলে রোগীকে অন্যত্র রেফার্ড করে দিচ্ছেন তারা।

এদিকে কার্যক্রম চালুর পর পর্যায়ক্রমে ইকোকার্ডিও গ্রাম, ইটিটি, কার্ডিয়াক মনিটর, কালার ডপলার, ডিজিটাল ইসিজি মেশিন বরাদ্দ মেলে। কিন্তু সেগুলো অব্যবহূত অবস্থায় অকেজো হয়ে গেছে। পরে বরাদ্দ পাওয়া আরো একটি অত্যাধুনিক ইকো মেশিন রোগীদের পরীক্ষায় ব্যবহার করা হয় না দেড় বছরের বেশি সময় ধরে। অথচ রোগীর হার্টের প্রকৃত অবস্থা দেখার জন্য ইকো করতে হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে চিকিৎসকের এক সহকারী জানিয়েছেন, করোনাকালে হাসপাতালে ইকো পরীক্ষা বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের পরিচিত কেউ হলে করে দেন।

সূত্র জানায়, সরকারি এ প্রতিষ্ঠানে ইকো করতে ২০০ টাকা খরচ হলেও বাইরের ক্লিনিকে এ পরীক্ষা করাতে দেড় থেকে ২ হাজার টাকা ব্যয় হয়, যা দরিদ্র রোগীদের পক্ষে কষ্টকর হয়ে যায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, করোনারি কেয়ার ইউনিটে মোট ২৮টি শয্যা রয়েছে। সেখানে ভর্তি থাকেন শতাধিক রোগী। বহির্বিভাগে প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক রোগী চিকিৎসার জন্য আসে। শুধু যশোর নয়, নড়াইল, ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার রোগীরা এখানে আসে চিকিৎসা নিতে। তাদের বেশির ভাগই দরিদ্র। কিন্তু ইসিজি ছাড়া হূদরোগে আক্রান্তদের অন্য কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। আন্ত ও বহির্বিভাগের রোগীদের সব পরীক্ষা হাসপাতালের বাইরের ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক থেকে করিয়ে আনতে হয়। এতে রোগীদের হয়রানি ও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান জানান, করোনারি কেয়ার ইউনিটের জন্য জনবল ও যন্ত্রপাতি পেতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে। সর্বশেষ গত আগস্টেও একটি চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। যন্ত্রপাতি নষ্টের বিষয়টি জানানো হয়েছে কর্তৃপক্ষকে। পর্যাপ্ত জনবল, আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ না পেলে উন্নত চিকিৎসাসেবা দেয়া যেন সত্যিই কষ্টকর। আরেক প্রশ্নে তিনি বলেন, নিয়মিত ইকো পরীক্ষার ব্যাপারে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া হবে।