সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে একটি গোপন ঘরের সন্ধান পাওয়া গেছে। গতকাল সকালে উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের সোনারাম গ্রামে এ ঘরটির সন্ধান পাওয়া যায়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে পূর্ব পাইকড়া গ্রামের আব্দুল জুব্বার (৭৫) ও লক্ষ্মী বিষ্ণু প্রসাদ গ্রামের মুনসুর আলীর স্ত্রী শিল্পী খাতুন (৪৮) সুড়ঙ্গ তৈরি করে সেখান থেকে বের হয়ে আসেন। পরে তারা পরিবারের কাছে বন্দি থাকার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন। ছয় মাস ধরে তাদের সেখানে বন্দি করে রাখা হয়।
স্থানীয়রা এটিকে মিনি ‘আয়নাঘর’ বলছে। এ ঘরে মানুষকে বন্দি করে নির্যাতন চালিয়ে চাঁদা আদায়, কিডনি বিক্রি ও জমি লিখে নেয়াসহ বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম পরিচালনা করা হতো বলে জানিয়েছেন মুক্ত হওয়া ব্যক্তিরা।
গোপন ঘর থেকে মুক্ত হওয়া শিল্পী খাতুন বলেন, ‘পাঁচ মাস ধরে আমি বন্দি ছিলাম। এক মাস অন্য জায়গায় রেখেছিল। তবে কোথায় রেখেছিল জানি না। মাঝেমধ্যে শরীরে ইনজেকশন দিত তারা।’
তবে কারা তাকে বন্দি করেছিল—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি পল্লী চিকিৎসক আরাফাত, শরীফ মেম্বার, কামরুল ইসলাম, হাফিজুল, পান্নাসহ আরো তিনজনের নাম বলেন। তারা সবাই মুখোশ পরা ছিল। মারধর করত, নির্যাতন চালাত।
আরেক ভুক্তভোগী আব্দুল জব্বার গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তার ছেলে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বাবা গত বছরের ৮ নভেম্বর বিকাল ৩টার দিকে নিখোঁজ হন। পরে কোথাও খুঁজে না পেয়ে ১২ নভেম্বর থানায় জিডি করেছিলাম। তাতেও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার রাতে বাবা গোপন ঘর থেকে কৌশলে বের হয়ে এসেছেন।’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায় গেছে, ওই ভবনের মালিক জহুরুল ইসলামের ছেলে সুমন সেখ। অভিযোগ রয়েছে, ভাড়া নিয়ে ভবনের নিচে বেশ কয়েকটি ছোট ছোট কক্ষ বানিয়েছেন পশ্চিম লক্ষ্মীকোলা গ্রামের রেজাউল করিম তালুকদারের ছেলে পল্লী চিকিৎসক নাজমুল হোসেন আরাফাত। তিনি ও তার লোকজন গভীর রাতে ওই বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন।
রায়গঞ্জ থানার ওসি আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। গোপন ঘর থেকে মুক্ত হওয়া ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে নাজমুল ইসলাম আরাফাতসহ কয়েকজন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।










