২০২১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী সামনে রেখে জামালপুরের ইসলামপুরে ডা. খোরশেদুজ্জামান (মিশ্রি মিয়া) কল্যাণ ট্রাস্ট ৫০০ হতদরিদ্র ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে ঘর বিতরণ কর্মসূচি শুরু করে। এরই মধ্যে ২৫ গৃহহীনকে নতুন আধাপাকা ঘর তৈরি করে দিয়েছে এ ট্রাস্ট। এছাড়া  ট্রাস্ট থেকে ঘর নির্মাণে ঢেউটিনসহ নানা উপকরণ দেয়া হচ্ছে।

স্বেচ্ছাসেবী এ ট্রাস্টের দেয়া আধাপাকা নতুন ঘর পেয়েছেন  জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার মৌজাজাল্লা গ্রামের বাসিন্দা লালু ফকির। তিনি বলেন, গত বছর ঝড়ে আমার ঘর ভেঙে যায়। এরপর থেকেই একটি ঝুপড়ি বানিয়ে পরিবার নিয়ে বসবাস করছিলাম। বৃষ্টি হলেই পানি চলে আসত ঝুপড়িতে। ফলে পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছিল। এ অবস্থায় নতুন ঘর পেয়ে একটু শান্তিতে ঘুমাতে পারছি।

অন্যজন একই গ্রামের মো. দুলাল বাবার বানানো ঘরে বসবাস করতেন। কয়েক যুগ আগে বানানো ঘরটি হঠাৎ ভেঙে যায়। দুই ছেলে আর স্ত্রীকে নিয়ে যেন অতল সাগরে পড়েন তিনি। মো. দুলাল বলেন, গরীব মানুষ, দিনমজুরি করে পেট চালাই। ভাঙা ঘর মেরামতের সামর্থ্য ছিল না। মিশ্রি মিয়া কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে আমাকে নতুন ঘর তৈরি করে দেয়া হয়েছে।

ডা. খোরশেদুজ্জামান (মিশ্রি মিয়া) কল্যাণ ট্রাস্টের সহায়তায় নিজেদের নতুন ঘরে থাকছেন কেবল এ দুজনই নন, তাদের মতো ইসলামপুরের অনেক গৃহহীনকে নতুন আধাপাকা ঘর তৈরি করে দিচ্ছে ট্রাস্ট। এছাড়া ট্রাস্ট থেকে ঘর নির্মাণে টিনসহ নানা উপকরণ বিতরণ করা হচ্ছে।

সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কাজে অংশগ্রহণ করে ডা. খোরশেদুজ্জামান (মিশ্রি মিয়া) কল্যাণ ট্রাস্ট জেলার বিভিন্ন স্তরের মানুষের কাছে ব্যাপক পরিচিত। সীমিত পরিসরে ২০১৫ সালে এ ট্রাস্টের যাত্রা শুরু হয়। ২০২১ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী সামনে রেখে এ কল্যাণ ট্রাস্ট ব্যাপক সেবামূলক কাজ শুরু করে। ট্রাস্টের বঙ্গবন্ধু নিবাস কার্যক্রমের আওতায় চার বছরে প্রায় ৫০০ ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে গত বছর থেকেই। এখন পর্যন্ত ২৫টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া ১২৭ জনকে ঢেউটিন, বাঁশ, কাঠ, খুঁটি ইত্যাদি নির্মাণ সামগ্রী দিয়েছে ট্রাস্ট। ২০২৫ সালের মধ্যে গৃহহীনদের জন্য ৪৪৫টি পাকা ঘর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে ট্রাস্টের। এর মধ্যে চলতি বছর ৭৫টি, ২০২৩ সালে ১০০, ২০২৪ সালে ১২০ এবং ২০২৫ সালে ১৫০টি পাকা ঘর নির্মাণের কথা রয়েছে।

ট্রাস্টের বোর্ড অব ট্রাস্টি ও ডা. খোরশেদুজ্জামানের (মিশ্রি মিয়া) ছোট ছেলে এসএম শাহীনুজ্জামান বলেন, মানুষের পাশে থাকার শিক্ষা পরিবার থেকেই পেয়েছি। ইসলামপুরের মানুষের জন্য আমার বাবা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কাজ করে গেছেন। আমিও ইসলামপুরের মানুষের পাশে আজীবন থাকব। এ এলাকার প্রতিটি মানুষকে নিজের ঘরে থাকার অধিকার নিশ্চিতে কাজ করে যাব।

উল্লেখ্য, মিশ্রি মিয়া ট্রাস্টের মাধ্যমে ইসলামপুরের প্রায় এক লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে উপকৃত হয়েছে। এদের মধ্যে কেউ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, কেউ আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন। এর বাইরে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী নিয়ে ট্রাস্ট বই পড়া কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী বিতরণ ও তার ওপর সাধারণ জ্ঞান এবং বক্তৃতা প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে সেরা চারজনকে এককালীন বিশেষ বৃত্তি প্রদানের কাজও শুরু করেছে এ ট্রাস্ট।