নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পর এবার পুনর্গঠন হতে যাচ্ছে বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজ (বিওটি)। এরই মধ্যে পুনর্গঠনের সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়টির চ্যান্সেলর। সে আলোকে আজ একটি সভা ডেকেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় এ সভায় মানারাত ইউনিভার্সিটি ট্রাস্ট পুনর্গঠন করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

মঙ্গলবার মানারাত ইউনিভার্সিটির ট্রাস্ট-সংক্রান্ত এ সভার একটি নোটিস ইস্যু করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব ড. মো. ফরহাদ হোসেন স্বাক্ষরিত ওই নোটিস শিক্ষাবিদ, রাজনীতিক, সমাজকর্মী ও সরকারি কর্মকর্তাসহ ২২ জন ব্যক্তিকে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজ পুনর্গঠনে সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আজ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে একটি সভা ডাকা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এতে সভাপতিত্ব করবেন। সভায় উপস্থিত থাকবেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী।

চিঠিপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, সাবেক সিনিয়র সচিব সাজ্জাদুল হাসান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মশিউর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাদেকা হালিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের অনারারি অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হক, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী আরাফাত, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের অধ্যাপক ড. মেখলা সরকার, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (আইইবি) সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুর সবুর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম মাহমুদ, হাসুমণির পাঠশালার সভাপতি মারুফা আক্তার পপি, বাংলাদেশ মহিলা সমিতির সদস্য ইসরাত জাহান নাসরিন, সোশ্যাল ইমপ্রুভমেন্ট সোসাইটির (এসআইএস) নির্বাহী পরিচালক মিহির কান্তি ঘোষাল।

এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের (এনএসআই) মহাপরিচালক, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান, অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শককে (এসবি) সভার নোটিস পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সভায় ডাক পাওয়া শিক্ষাবিদ, রাজনীতিক, সমাজকর্মী ও সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে পুনর্গঠন হতে যাচ্ছে মানারাতের ট্রাস্টি বোর্ড। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউজিসির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত) দিল আফরোজ বেগম বণিক বার্তাকে বলেন, প্রাপ্ত চিঠি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠনের সিদ্ধান্তে এরই মধ্যে চ্যান্সেলর অনুমোদন দিয়েছেন। তা বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার একটি সভা ডেকেছে। কী কারণে পুনর্গঠন করা হচ্ছে, সভায় যাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

এদিকে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. নজরুল ইসলাম, ট্রেজারার হাফিজুল ইসলাম মিয়া, স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন প্রফেসর এম হারুন-অর-রশিদ ও মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার মো. মনিরুল ইসলামকেও ট্রাস্ট পুনর্গঠনের সভায় থাকতে চিঠি দেয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ-বিষয়ক একটি চিঠি পেয়েছি। আমিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা সভায় অংশ নেব।’

নর্থ সাউথের বোর্ড থেকে বাদ পড়া ট্রাস্টিদের বিরুদ্ধে যেমন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ছিল, মানারাতের ক্ষেত্রে সেটা কেমন?—এমন প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, আসলে মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার পরই আমরা এ বিষয়ে অবগত হই। এখন মন্ত্রণালয় কিছু পেয়েছে কিনা, সেটি সভায় যাওয়ার পর বোঝা যাবে।

এর আগে গত ১৬ আগস্ট শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিওটি পুনর্গঠন করে দেয় সরকার। নর্থ সাউথের আগের ট্রাস্টিদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আমলে নিয়ে ইউজিসির সুপারিশের আলোকে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে তা সম্পন্ন করে মন্ত্রণালয়। এক্ষেত্রে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৩৫ (৭) ধারা প্রয়োগ করা হয়। আইনের এ ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো কারণে কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা দেখা দিলে কিংবা উহার স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত ও শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে, উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখিবার স্বার্থে, চ্যান্সেলর, কমিশন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুপারিশক্রমে, প্রয়োজনীয় আদেশ ও নির্দেশ দিতে পারিবেন এবং এতদিবষয়ে চ্যান্সেলরের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।’

একই ধারা প্রয়োগের মাধ্যমে মানারাতের ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠন করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। আইনে এ ধরনের প্রক্রিয়ায় কমিশনের সুপারিশের কথা বলা থাকলেও মানারাতের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত কমিশনের কোনো সুপারিশ নেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন ইউজিসির কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ৩ এপ্রিল অনুমোদন পায় মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্য মতে, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রাস্টি বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।