রাজধানী ঢাকার পাশে অবস্থিত কৃষি অধ্যুষিত নবাবগঞ্জ উপজেলায় এবার পোকামাকড় ও রোগবালাই তুলনামূলক কম থাকায় ব্রি-২৯ ধানের ফলন খুব ভালো হয়েছে। এজন্য করোনা মহামারীতেও থেমে নেই কৃষকের কাজ। এ উপজেলার ঘরে ঘরে চলছে এখন নতুন ধান তোলার উৎসব।
নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাহিদুজ্জামান জানিয়েছেন, এবার নবাবগঞ্জ উপজেলায় ধান উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। এরই মধ্যে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ৪২টি কৃষি ব্লকে শুরু হয়েছে ধান কাটা ও মাড়াই। কৃষকের ঘরে ঘরে এখন নতুন ধান তোলার ব্যস্ততা। উপজেলার প্রতিটি এলাকায় এবার ভালো ফলন হয়েছে। উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্র জানায়, নবাবগঞ্জে ব্রি-২৯ ধান এবার ৯ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও ধান চাষ হয়েছে ৯ হাজার ৯২৬ হেক্টর জমিতে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার যন্ত্রাইল, শোল্লা, কৈলাইল, বাহ্রা, চুড়াইন, বক্সনগর, নয়নশ্রী ইউনিয়নে ব্রি-২৯, ২৮, ৫৮, ৬৩ জাতের ধানের ভালো ফলন হয়েছে। অন্যদিকে আগলা, গালিমপুর ইউনিয়নে ব্রিধান ২৯, ২৮, ৫৮, ৬৩ জাতের ধান ভালো উৎপাদন হয়েছে। এছাড়া বান্দুরা, শিকারীপাড়া, জয়কৃষ্ণপুর বারুয়াখালীতে ২৯, ৭৪, ৮৮, ৮৯, ৯২ সহ বিনা-১০ ও ১৪ জাতের ধানের ব্যাপক উৎপাদন লক্ষ্য করা গেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক বঙ্গবন্ধু জাতীয় পদকপ্রাপ্ত কৃষাণী উপজেলার যন্ত্রাইল ইউনিয়নের বাসিন্দা মায়ারানী বাউল ও কৈলাইল ইউনিয়নের পাড়াগ্রামের বাসিন্দা কৃষক মো. মিরাজ বলেন, আমাদের এলাকায় এবার বৃষ্টি না হলেও শতভাগ বিদ্যুৎ অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে ধানের পুরো মৌসুম ছিল নিরবিচ্ছিন বিদ্যুৎ সেবা। ফলে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মো. আবুল হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিখাতে ব্যাপক ভর্তুকি দিয়ে আসছে। দেশে এখন সার ও বীজের সংকট নেই। ফলে ধানসহ কৃষি ফসল উৎপাদনে কৃষক সমাজ অনেকটা এগিয়ে চলেছে। আবহাওয়া অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর ভালো থাকায় ধানের ফলন ভালো হয়েছে।










