নাটোরের বড়াইগ্রামের চান্দাই ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সাতজন আহত এবং বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ১৪ দোকান ও নয়টি বাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। সংঘর্ষে ছয়জন রাবার বুলেটবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা নিশি। রোববার সন্ধ্যায় বড়াইগ্রাম উপজেলার চান্দাই ইউনিয়নের দাসগ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
রাবার বুলেটে আহতরা হলেন শহিদুল, রবিউল ইসলাম, মামুন হোসেন (২১), সাগর আলী (২০), মশিউর রহমান (২৮) ও জাহিদ আলী (১৮)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কমিটি নিয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম টিপু ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহামনের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। কমিটি গঠনের পরদিন ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি বাতিলের জন্য মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে হাবিবুর রহমানের সমর্থকরা। এর জেরে রোববার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে।
এ বিষয়ে নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বড়াইগ্রাম সার্কেল) মো. শরীফ আল রাজীব জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রবিউল ইসলাম টিপু ও হাবিবুর রহমানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে সমর্থকদের সংঘর্ষ ঘটে। খবর পেয়ে রাতে বড়াইগ্রাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। তবে সেখানে কেউ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন—এমন কোনো খবর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ‘কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
চান্দাই ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম টিপু বলেন, ‘রোববার সন্ধ্যায় শতাধিক লোক নিয়ে এসে দাসগ্রাম বাজারে ককটেল ফাটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এ সময় হাবিবুর রহমানের ভাই সাইদুল ইসলাম ফাঁকা গুলি ছুড়তে থাকে। লোকজন পালিয়ে গেলে দাসগ্রাম বাজার ও রাজেন্দ্রপুর কুদুর মোড়ের ১৪টি দোকান ভাংচুর ও লুটপাট করে।’
এদিকে সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান দাবি করেন, রবিউল ইসলাম টিপুর লোকজন এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমানসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তার দোকানঘর ভাংচুর ও যুবদলের কার্যালয় ভাংচুর ও লুটপাট করে। পরবর্তী সময়ে তার লোকজন এসব প্রতিরোধ করে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, ‘তদন্তের জন্য উপজেলা বিএনপিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যেই দোষী হোক তার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’










