নতুন বছরের শুরু থেকে শীত জেকে বসেছে চা বাগান অধ্যুষিত জেলা মৌলভীবাজারে। জেলার পাহাড়ি এলাকার চা বাগানগুলোতে শীতের তীব্রতা খানিকটা বেশি। শীতের গরম কাপড়ের অভাবে কষ্ঠ পাচ্ছে দরিদ্র চা শ্রমিকরা। অর্থ কষ্টে শীতবস্ত্র কিনতে পারছে না অনেক চা শ্রমিক।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া কার্যালয় সূত্র জানায়, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে এই অঞ্চলে তাপমাত্রা নামতে শুরু করে। গত দুদিন ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে শ্রীমঙ্গলে। বুধবার সকালে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। গত মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা ছিল। এমন অবস্থায় কর্মজীবীদের শ্রম ঘণ্টা কমে আসছে।
দেশের ৯২টি চা বাগান রয়েছে মৌলভীবাজারে। এসব চা বাগানগুলোর আশেপাশে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস করেন। চা বাগানে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত লক্ষাধিক মানুষ। তারা এখন গরম কাপড়ের অভাবে পড়েছে। তীব্র শীতে কষ্টে জীবনযাপন করছেন তারা।
শ্রমিকরা বলেন, গায়ে দেবার কাপড় যেমন নেই রাতে ঘুমাবার গরম কাপড়ও নেই। কখনো খরকুটো দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে গরম পোহাই। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে শীতের কাপড় বিভিন্ন এলাকায় দিলেও চা বাগানে কেউ এসব নিয়ে আসেন না।
আরেক চা শ্রমিক স্বপন বাড়াইক বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। বাগানে সবার কাজ নেই। একজন কাজ করে পুরো সংসার চালাতে হয়। এরমধ্যে শীতের কাপড় কেনা আর হয় না। এখন পর্যন্ত কেউ গরম কাপড় দেয়নি।’
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. ছাদু মিয়া জানান, শীতার্তদের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে এরমধ্যে ৩৫ হাজার ২৮০টি কম্বল এসেছে। এগুলো উপজেলাগুলোতে পাঠানো হয়েছে। তারা সেগুলো বন্টন শুরু করেছে। এর বাইরে আরো ৩০ হাজার কম্বলের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। চা শ্রমিকদের জন্য আলাদাভাবে শীতবস্ত্র দেয়ার সুযোগ নেই। তবে সুযোগটি তৈরি করা উচিত।
মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ বলেন, ‘চা বাগানগুলোতে ঠাণ্ডার মাত্রাটা কিছু বেশি থাকায় সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ঠ রোগ বাড়ছে। তবে আমরা তৎপর রয়েছি এবং আমাদের হাতে পর্যাপ্ত ওষুধ রয়েছে। আর পরিস্থিতি খুব মারাত্মক নয়।’










