চলতি বছরের শেষ নাগাদ তিস্তা মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, ‘তিস্তা নিয়ে অনেক বছর ধরে ঝুলে থাকা কাজ চূড়ান্ত পরিণতিতে আনতে আমরা কাজ করছি। একটি পরিকল্পনা অনেক বছর ধরে আলমারিতে তোলা ছিল। সেই পরিকল্পনা বের করেছি। চীনারা নিজেই তিস্তাপাড়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমরা মানুষের মতামত সন্নিবেশ করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছি। তারা এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারের আরেক স্তরে পাঠিয়ে দেবে। ওখান থেকে অনুমোদন পেলে এবং চীনা প্রতিষ্ঠান নকশা করলে আমরা সেই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে পারব।’

গতকাল বিকালে রংপুর নগরীর কেল্লাবন্দ এলাকায় শ্যামাসুন্দরী খাল পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, ‘তিস্তা উত্তরাঞ্চলের বড় সমস্যা। তিস্তার ভাটির দেশ হিসেবে আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। একই সঙ্গে অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত ভাটির মানুষ যেন বারবার বন্যা, নদীভাঙন, সেচের পানির জন্য কষ্ট না পায়, সে লক্ষ্যে চীন সরকারের সঙ্গে কথা বলছি।’

তিনি বলেন, ‘আগেরবার রংপুর সফরে এসে তিস্তা নদীর বেশি ভাঙনপ্রবণ ৪৫ কিলোমিটার এলাকায় কাজের কথা বলেছিলাম। আমি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে দুই মাসের মধ্যে টাকা ছাড় করিয়ে কাজ শুরু করিয়েছি। বর্তমানে ১৯ দশমিক ৫ কিলোমিটার এলাকার কাজ হয়েছে। বাকিটুকু সামনের মৌসুমে করে ফেলব। ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়ায় এখন পর্যন্ত কোনো মানুষ তাদের জমি হারায়নি।’

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘তিস্তাপাড়ের মানুষের বড় দাবি স্থায়ী বাঁধ করে দেয়া। এজন্য যে পরিমাণ সময় ও রিসোর্স লাগে, সে সময় আমাদের হাতে নেই। স্থায়ী বাঁধ রংপুর চায়, ফেনী চায়, শরীয়তপুর চায়। আমরা দরিদ্র দেশে বসবাস করি। আমরা অনুমোদিত যে বাজেট পেয়েছিলাম, এর বাইরে গিয়েও তিস্তার ভাঙন রোধে কাজ করেছি।’

নগরীর শ্যামাসুন্দরী খাল নিয়ে তিনি বলেন, ‘শ্যামাসুন্দরী খালের জন্য ১০ কিলোমিটার এলাকা ড্রেজিং করতে হবে। এখানে ৬৮টি ড্রেনেজ পয়েন্ট রয়েছে, যেখান থেকে বর্জ্য আসে। দুটি পয়েন্টে বাঁধ আছে, সেটি নিয়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে কথা বলেছি। সেনাবাহিনী, জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড একসঙ্গে বসে কাজের ম্যাপ করবে। কোথায় কোথায় পানিপ্রবাহে সমস্যা আছে, সেগুলো অপসারণ, বাঁধ কেন দেয়া আছে, যৌক্তিকতা আছে কিনা, তার বিকল্প কী হতে পারে সেটা নিয়ে তারা কাজ করবে। আমরা আশা করছি শুষ্ক মৌসুমে কাজ শুরু করতে পারব।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগ রংপুরের পরিচালক আবু জাফর, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী (উত্তরাঞ্চল) মাহবুবুর রহমান, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল প্রমুখ।