আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ড. ইউনূস যেসব কথা বলে বেড়াচ্ছেন সেসব
কথা অসত্য এবং কথাগুলো বাংলাদেশের জনগণের জন্য অপমানজনক।
বুধবার (১২ জুন) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইউরোপীয়
দুই প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎ শেষে তিনি সাক্ষাতের
আলোচনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
ড. ইউনুস প্রসঙ্গে প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কী আলোচনা হয়েছে সাংবাদিকের
এ প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, উনারা জানতে চেয়েছেন যে এটা কি বিচারকার্য, উনাদের
দেশ থেকে অনেক প্রশ্ন আসছে উনাদের কাছে। সেসব বিষয়ে উনারা একটু পরিষ্কার হতে চাচ্ছেন।
পরিষ্কার হওয়ার ব্যাপারে আমি তখন বলেছি যে ড. ইউনূসের ব্যাপারে কি কি মামলা আছে। ড.
ইউনূসের ব্যাপারে প্রথম মামলা আছে যে তিনি শ্রমিকদের অধিকার লঙ্ঘন করেছিলেন এবং সেখানে
মামলা হয়েছে, তাকে সাজা দেয়া হয়েছে। ১০৮ শ্রমিক ব্যক্তিগতভাবে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
সেখানে তারা কয়েকজন বলেছেন যে যার বিরুদ্ধে তারা নালিশ করেছেন সেটা হচ্ছে ড. ইউনুস
এবং তিনি তাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন তিনি তাদের ক্ষতিপূরণ দেবেন। অনেকের মামলা পেন্ডিং
আছে।
আইনমন্ত্রী আরো বলেন, তার বিরুদ্ধে অ্যান্টি করাপশন কমিশন একটি মামলা
করেছে, সে মামলার ব্যাপারে আমি বলেছি মামলাটা আদালতে চলমান। আদালতে যে মামলা চলমান
থাকে তার ব্যাপারে আইনমন্ত্রী কোনো কথা বলেন না।
আরেকটা বিষয় আমি বলেছি যে তার বিরুদ্ধে ট্যাক্স ইভেশনের মামলা আছে
উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, সে একটা মামলায় তিনি আপিল বিভাগ পর্যন্ত গিয়ে হারার পর
ট্যাক্স দিয়েছেন এবং অন্যান্য মামলা যেগুলো আছে সেগুলো ট্যাক্স ইভেশনের। এখানেও বলেছি
ট্যাক্স ইভেশনের ব্যাপারে পশ্চিমা দেশ সেটাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলা বলে মনে করে।
ঠিক সেভাবেই তার মামলা হচ্ছে। যদি দেশের যেকোনো নাগরিক দেশের আইন ভঙ্গ করে তার যে রকম
বিচার হয় ড. ইউনুসেরও ঠিক সেভাবে বিচার হচ্ছে। আমি এটা বলেছি যে ড. ইউনুস যেসব কথা
বলে বেড়াচ্ছেন সেসব কথা অসত্য এবং কথাগুলো
বাংলাদেশের জনগণের জন্য অপমানজনক।
প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে আইনমন্ত্রী বলেন, উনাদের সঙ্গে
অনেক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। শ্রম আইন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স আইনের বিষয়ে আমরা কি
করছি, ডাটা প্রটেকশন অ্যাক্ট, সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট। তাদের যে ইলেকশন কমিশনের টিম
এসেছিল, সে টিম একটা রিপোর্ট দিয়েছে, সেই রিপোর্টের ব্যাপারে আমরা কি চিন্তা ভাবনা
করছি। রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে এবং সবশেষে অ্যান্টি ডিসক্রিমিনেশন বিল সম্বন্ধেও তাদের
সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল। তারা আমাকে ইউনূস সাহেবের মামলার ব্যাপারেও জিজ্ঞেস করেছিলেন।
শ্রম আইন নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা কবে শ্রম আইনটা
পাস করতে চাচ্ছি, বিষয়টি সম্পর্কে তারা জানতে চেয়েছিলেন। আমি বলেছি যে আন্তর্জাতিক
সংস্থার বোর্ডে আমাদের বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়েছিল, আমরা সে নালিশটার অবসান চাই।
আমি বলেছি যে আমরা যথেষ্ট কাজ করেছি শ্রম অধিকার ও শ্রম আইন সংশোধনের ব্যাপারে। আমার
মনে হয় এটা শেষ করে দেয়া উচিত। আমার সঙ্গে এ পর্যায়ে তারা বলেছেন তারা অবশ্যই চিন্তা
করবেন যে গভর্নিং বডির মিটিং যেটা নভেম্বরে হবে সেখানে আমাদেরকে সমর্থন করবে।










