বান্দরবানের লামায় পাহাড় কেটে পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে লামা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও গজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাথোয়াইচিং মারমার বিরুদ্ধে। পাহাড় কাটার পাশাপাশি দুই একর বন ধ্বংস হয়েছে। এতে পাহাড় ধসের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।

অভিযোগ রয়েছে, মাসখানেক ধরে পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের কার্যক্রম চললেও তার বিরুদ্ধে আইনি কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে তার বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবানের সহকারী পরিচালক।

এদিকে ১২ নভেম্বর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নিতে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক শাহ্ মোজাহিদ উদ্দিন।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান বাথোয়াইচিং মারমা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সেখানে একটি ঘর ও একটি মাচাং করছি।’ কিছু করতে হলে একটু আধটু পাহাড় কাটা পড়বেই জানিয়ে তিনি পাল্টা জানতে চান, নীলাচল কি আগে থেকেই বর্তমান নীলাচলের মতো ছিল। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ব্যবস্থা নিলে নেবে, আর কি?’

জানা গেছে, প্রংখংডং পাহাড়টি ফাইতং ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত। বিধি অনুযায়ী, পর্যটন কিংবা অন্য যেকোনো ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য সরকারের অনুমোদন নেয়া বাধ্যতামূলক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই পর্যটন কেন্দ্র করার জন্য বাথোয়াইচিং ট্রেড লাইসেন্সের জন্য কোনো আবেদন করেননি বলে বণিক বার্তাকে জানিয়েছেন ফাইতং ইউনিয়ন পরিষদের সচিব কাজল কান্তি দাশ।

ফাইতং মৌজার বর্তমান হেডম্যান সিংমংহ্লা মারমা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘তিন মাস আগে বাবার পদে স্থলাভিষিক্ত হয়েছি। বিষয়টির বিস্তারিত জানবে আমার বাবা।’

তবে চেয়ারম্যান বাথোয়াইচিং মারমা ক্রয় বা দখল করুক, প্রংখংডং পাহাড়টি খাস বলে জানিয়েছেন ফাইতং মৌজার সাবেক হেডম্যান উম্রামং মারমা।

লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ওই স্থানটি পরিদর্শন করেছেন বলে জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবানের সহকারী পরিচালক ফখর উদ্দিন চৌধুরী। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রায় পাঁচ হাজার ঘনফুট পাহাড় কাটা হয়েছে। এ বিষয়ে এনফোর্সমেন্ট মামলা করা হবে।’

জেলা প্রশাসকের নির্দেশ ও পরিদর্শনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তফা জাবেদ কায়সার। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘‌২১ অক্টোবর ওই স্থানে অভিযান পরিচালনা করেছি। তখন কাউকে পাওয়া যায়নি। সে সময় একটি এক্সক্যাভেটর বিনষ্ট করা হয়। পাহাড়ের স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখতে ও কোনো কটেজ বা অন্য কিছু না করতে পক্ষভুক্তদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’