অপ্রতুল ও অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। এতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বছরের পর বছর জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে পড়ছেন পৌরবাসী। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের বেশি ভোগান্তি হচ্ছে। এলাকাবাসী এর স্থায়ী সমাধানের জন্য নতুন সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

শহরের নালা-নর্দমা ও জলাশয় দখল, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করা এবং পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা মৌসুম এলেই একই ভোগান্তির শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তারা জানান, জলাবদ্ধতা থেকে রেহাই পাচ্ছে না ১৮৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী মুক্তাগাছা পৌরসভা ভবনও। সামান্য বৃষ্টিতেই ভবন চত্বরে হাঁটুপানি জমে যায়। দীর্ঘ সময় দূষিত পানি জমে থাকায় পানিবাহিত রোগের আশঙ্কা বাড়ছে। শিক্ষার্থীরা চর্মরোগসহ খোঁস-পাচড়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতিকার চেয়ে পৌরবাসী বারবার প্রশাসনকে তাগিদ দিলেও ফল মিলছে না। নতুন সরকারের কাছে তাদের দাবি, এ দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া হোক।

জানা গেছে, অল্প বৃষ্টিতেই ঐতিহ্যবাহী বড় মসজিদ সড়ক, নায়েবআলী স্কুল, মহারাজা রোড, টানবাজার ও নন্দীবাড়িসহ পৌরসভার অন্তত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও পথচারীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

পৌরসভার বাসিন্দা মাহবুবুল আলম বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাদ্ধতার কারণে ঘর থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ভারি বর্ষণে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়।’ তিনি জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান।

৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা নাজমুল হক বলেন, ‘পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নতুন আউটফল নির্মাণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার নিশ্চিত করা না হলে মুক্তাগাছা পৌর শহরকে জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করা সম্ভব হবে না। আমরা চাই দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হোক।’ নতুন সরকারের কাছে বহু পুরনো এ শহরকে নাগরিক সুবিধা দেয়ার জন্য তিনি দাবি জানান।

পৌরসভার প্রকৌশলী সুকোমল রায় বলেন, ‘অনেক এলাকায় বৃষ্টির পানি বের হওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা নেই। ড্রেনগুলোর সঙ্গে প্রধান নালার সংযোগও অনেক ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন। বক্স-কালভার্ট ও ড্রেন ময়লা-আবর্জনায় ভরে থাকায় পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে না। এছাড়া রাস্তা নির্মাণের সময় ওয়াটার লেভেল বিবেচনায় না নেয়া শহরে জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক কৃষ্ণ চন্দ্র জানান, ‘যেসব এলাকায় বেশি পানি জমছে সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে পানি নিষ্কাশনের জন্য পৌরসভার কর্মীদের কাজ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ঘনবসতিপূর্ণ এ পৌরসভায় মাত্র ১২টি আউটফলের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন হয়। আরো অন্তত পাঁচটি নতুন আউটফল নির্মাণ করা গেলে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে। এজন্য বৃষ্টির পানি আয়মন নদী ও আশপাশের খালগুলোতে প্রবাহিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’