নাম গোলগাছ হলেও দেখতে কিছুটা নারকেল পাতার মতো। লোনাপানিতে জন্ম গোলগাছের। অথচ এর ডগা থেকে বেরিয়ে আসছে মিষ্টি রস। সেই রস দিয়ে তৈরি হচ্ছে গুড়। সুস্বাদু এ গুড়ের চাহিদাও রয়েছে ব্যাপক।
প্রতি বছর শীত মৌসুমে প্রতিদিন সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় শত শত কৃষক ব্যস্ত হয়ে পড়েন এ গাছের রস সংগ্রহ করতে। এরপর বাড়ির উঠানে বসে রস দিয়ে তৈরি করেন গুড়। আর সেই গুড় স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে চলছে এলাকার কৃষকের জীবন-জীবিকা।
দেশের প্রধান ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবনেই গোলগাছ বেশি জন্মায়। এছাড়া দক্ষিণ উপকূলের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে নদী ও সাগর তীরে, এমনকি খালপাড়েও লবণাক্ত পরিবেশে প্রাকৃতিকভাবে জন্মায় গোলগাছ। বর্তমানে উপকূলের অনেকে গোলবাগান করছেন। পটুয়াখালীর কলাপাড়া, কুয়াকাটা, রাঙ্গাবালি, গলাচিপা, বাউফল এলাকাসহ চরাঞ্চলে গোলগাছের বাগান রয়েছে। শীত মৌসুমে গোলবাগানের মালিকরা এর রস দিয়ে গুড় উৎপাদন করে বাড়তি অর্থ উপার্জন করেন। সংশ্লিষ্ট গোলগাছের মালিকরা জানান, প্রতিটি গোলগাছ পাতাসহ উচ্চতা হয় ১০-১২ ফুট পর্যন্ত। এর ফুল হয় হলুদ ও লাল বর্ণের। ফুল থেকে গাবনা পরিপক্ব হলে সেটি তালের আঁটির মতো কেটে শাঁস খাওয়া যায়। এটি পামজাতীয় উদ্ভিদ। এসব গাছ নদী কিংবা খালের পাড়ে প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম নেয়।
গোলগাছ চাষাবাদ অত্যন্ত লাভজনক, সহজসাধ্য ও ব্যয়ও খুব কম। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োজন হয় না। এতে কোনো পরিচর্যাও করতে হয় না। এক সময় এ উপজেলার বিভিন্ন খালবিল ও নদীতীরে প্রচুর গোলের বাগান দেখা যেত। কিন্তু জলবায়ুর প্রভাবজনিত কারণ ও প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ আর চাষাবাদের অভাবে এ গাছ কমে যাচ্ছে।
কলাপাড়ার নবীপুর গ্রামের গৃহবধূ আরতি রানী বলেন, বিয়ের পর থেকে গোলের রস দিয়ে গুড় তৈরি করছি। আগে অনেক গুড় হতো। এখন কমে গেছে। গোলচাষী নিঠুর হাওলাদার জানান, তার বাগান থেকে প্রতিদিন চার কলস রস বের হয়। এ থেকে মোট ১৫ কেজি গুড় আসে। প্রতিদিন সকালে কলস নিয়ে বাগানে যেতে হয়। এরপর প্রতিটি গাছ থেকে রস আনতে হয়। অগ্রহায়ণ-চৈত্র পাঁচ মাস রস সংগ্রহের কাজ চলবে।
একই গ্রামের কবির হাওলাদার বলেন, গোলগাছের গুড়ের স্থানীয় বাজারে ব্যাপক চাহিদা। এ উপজেলায় শত শত পরিবার গোলগাছের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করে।
উপজেলা বন কর্মকর্তা আব্দুস সালাম জানান, কলাপাড়া উপজেলার চাকামইয়া, নীলগঞ্জ ও টিয়াখালী ইউনিয়নের লোন্দা গ্রামে পরীক্ষামূলক গোলগাছের বীজ রোপণ করা হয়েছে। এতে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন।










