চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে এক স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্তের জেরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় চারজন শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিলেও মেয়ের পরিবারের দাবি তাদের ১০ জন আত্মীয়স্বজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার রাতে উপজেলার মনাকষা বাজার সাফিনা মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের খড়িয়াল গ্রামের মৃত লোকমানের ছেলে আজম আলী (৪৬), মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে শাহ আলম (৩২), টোকনা গ্রামের আবদুল রহমানের ছেলে আরিকুল ইসলাম (৫০), মনাকষা বাজারের চিনু আলীর ছেলে তোহরুল ইসলাম (৩০), নামোটোলা গ্রামের জাহেদ আলী (৪৫) ও বিশু আলী (২৮)। বাকি আহতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।

স্থানীয়রা জানায়, মনাকষার হুমায়ন রেজা উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে দীর্ঘদিন উত্ত্যক্ত করে আসছিলক্ত পার্শ্ববর্তী হাউসনগর গ্রামের সফিকুল ইসলামের ছেলে জুয়েল (২৫)। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে কয়েকবার মীমাংসাও হয়। এর পরও বৃহস্পতিবার হুমায়ন রেজা উচ্চবিদ্যালয়ের সড়কে আবারো ওই স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে জুয়েল। পরে স্কুলছাত্রী বাড়ি এসে তার নানিকে বিষয়টি অবহিত করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শুক্রবার রাতে সাফিনা মার্কেটসংলগ্ন স্কুলছাত্রীর মামার দোকানের সামনে ও বাজারে ১০-১২টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে জুয়েলসহ তার লোকজন। এতে প্রায় ১০ জন আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এর মধ্যে আরিকুলকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

এ বিষয়ে স্কুলছাত্রীর বাবা জানান, স্কুলে যাওয়া-আসার পথে দীর্ঘদিন মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে আসছে জুয়েল। এ নিয়ে ছেলের বাবাকে বেশ কয়েকবার অবহিত করার পর স্থানীয় ইউপি সদস্যের মাধ্যমে মীমাংসা হয়। তার পরও মাঝে মাঝে তার মেয়েকে রাস্তায় উত্ত্যক্ত করত জুয়েল। এর প্রতিবাদ করায় ভীতি ছড়াতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটনায় ছেলেটির সমর্থকরা।

এ ঘটনায় জুয়েলের কোনো মন্তব্য না পাওয়া গেলেও তার মামা মেসবাহুল বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, ঘটনার সময় তিনি সাহাপাড়ায় ছিলেন।

এ ব্যাপারে মনাকষা ইউপি চেয়ারম্যান মির্জা শাহাদাৎ হোসেন জানান, শুনেছি এক স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্তের জেরে মনাকষা বাজারে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ত্রাস করেছে ছেলে পক্ষ।

এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার ওসি চৌধুরী জোবায়ের আহাম্মদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি মেয়েকে উত্ত্যক্ত নয়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গ্রুপে সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণে কয়েকজন আহত হয়েছে বলে দাবি করেন। তিনি আরো জানান, ছয়টি ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।