যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলা। চরের লোকজনের যাতায়াতের মাধ্যম ইঞ্জিনচালিত নৌকা। এ কারণে এ অঞ্চলে বিভিন্ন দোকানে ডিজেল ও পেট্রল বিক্রি হয়। তবে তা ড্রামে নয়, রীতিমতো দোকানে বসানো হয়েছে স্টোরেজ ট্যাংক। রয়েছে ডিসপেন্সিং ইউনিটও। বিস্ফোরক লাইসেন্স, পরিবেশের ছাড়পত্র, উপজেলা, পৌরসভা এবং ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন ছাড়াই স্থাপন করা হয়েছে এগুলো। ফিলিং স্টেশন নামকরণে বিক্রি করা হচ্ছে জ্বালানি তেল। এতে অগ্নিদুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীরা। তবে পেট্রল ব্যবসায়ীরা বলছেন, এটি আধুনিক পদ্ধতি। এতে ক্ষতিকর প্রভাবও কম।

মেসার্স পারুল এন্টারপ্রাইজ তেল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে দুটি মেশিনে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল। পাম্পের দায়িত্বে থাকা আছাব্বর মিয়া জানান, এ পাম্পের বিস্ফোরক অনুমোদন রয়েছে। ফায়ার অনুমোদন অনেক আগের। তবে সেটি নবায়ন করার জন্য কাগজপত্র জমা দেয়া হয়েছে।

মেসার্স লোপা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী লোকমান হোসেন জানান, তার বিস্ফোরক লাইসেন্স আছে, কিন্তু সেটি অনেক আগের। কয়েক বছর আগে তিনি ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন নিয়েছেন। সেটির মেয়াদ শেষ হয়েছে কিনা সে বিষয়ে তিনি কোনো উত্তর দেননি।

কুতুবপুর বাজারের পেট্রল ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন জানান, তিনি আপাতত মেশিনে তেল বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়া গেলে বিক্রি করবেন। মেশিন দিয়ে তেল বিক্রি করলে ক্ষতিকর প্রভাব কম থাকে।

বিস্ফোরক লাইসেন্স কর্তৃপক্ষ রাজশাহী অফিসের তথ্যানুযায়ী, মেসার্স পারুল এন্টারপ্রাইজকে বিস্ফোরক লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। তবে তিনি শুধু ড্রামে করে জ্বালানি তেল বিক্রি করতে পারবেন। মেশিনে তেল বিক্রি করতে পারবেন না। মেসার্স লোপা এন্টারপ্রাইজকে বিস্ফোরক লাইসেন্স দেয়া হয়েছে কিনা তার তথ্য অফিসে পাওয়া যায়নি। ৫ মে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের বিস্ফোরক পরিদপ্তর থেকে বেআইনিভাবে ডিসপেন্সিং ইউনিট স্থাপন করে পেট্রোলিয়াম দ্রব্য মজুদ ও সরবরাহের জন্য একটি কারণ দর্শানোর নোটিস প্রদান করা হয়েছে।