ছোট ঘটনাগুলো মীমাংসার মধ্য দিয়ে মামলাজট ও সময়ক্ষেপণ কমানো সম্ভব বলে মনে করেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। তাই বিচারকাজে গতিশীলতা বাড়াতে তুচ্ছ ও ছোটখাটো বিষয়ে মামলা না করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে গতকাল জেলা আইনজীবী সমিতির এক মতবিনিময় সভায় প্রধান বিচারপতি এ কথা বলেন।

বিচার বিভাগের আধুনিকায়ন ও মানোন্নয়নে আইনজীবীদের কাছে পরামর্শ চেয়ে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, ‘সবার গুরুত্বপূর্ণ মতামত নিয়ে বিচার বিভাগের জন্য দীর্ঘমেয়াদি জুডিশিয়াল প্ল্যান প্রস্তুত করতে চাই। তাই মামলাজট হ্রাস, বিচার বিভাগ থেকে দুর্নীতি নির্মূল ও বিচার বিভাগের কার্যক্রমে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সেবার মানোন্নয়নসহ আধুনিকায়নে যদি কোনো পরামর্শ থেকে থাকে, তাহলে অনুগ্রহ করে লিখিত আকারে সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রিতে পাঠাবেন।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘একজন আইনজীবী সরাসরি নিজেকে অসহায় মানুষের সেবায় নিয়োজিত করতে পারেন। আইন পেশাকে নিছক জীবিকা নির্বাহের একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা না করে অধিকারবঞ্চিত মানুষের কল্যাণ নিশ্চিতের একটি উপায় হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তাহলেই কেবল আইনজীবী হিসেবে সার্থকতা পাওয়া যাবে।’ 

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল হাসান বলেন, ‘ছোটখাটো বিষয়ে মামলা না করলে মামলার সংখ্যা কমে যাবে। এক্ষেত্রে সংবাদপত্র তথা মিডিয়া সচেতনতামূলক ভূমিকা নিতে পারে। পাশাপাশি মামলার সংখ্যা কমাতে লিগ্যাল এইড কর্তৃপক্ষের ভালো ভূমিকা নেয়ার সুযোগ রয়েছে। ছোটখাটো বিষয়ে বা তুচ্ছ বিষয়ে কিংবা কথায় কথায় মামলা-মোকদ্দমা না করলে মামলার সংখ্যা কমে যাবে। এজন্য এমন বিষয়গুলো আলাপ-আলোচনা করে সমাধানের জন্য সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে।’

লালমনিরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও লালমনিরহাট-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য মো. মতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. ইকবাল কবির এবং লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ মো. মিজানুর রহমান। এর আগে লালমনিরহাট আদালত প্রাঙ্গণে নবনির্মিত বিশ্রামাগার উদ্বোধন করেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।