বান্দরবানের
লামা উপজেলার রেংয়ান ম্রো পাড়ায় অগ্নিসংযোগ-ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা
জানতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চার সদস্যের তদন্ত দল।
গতকাল সকালে রেংয়ান ম্রো পাড়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে তদন্ত দলকে মৌখিকভাবে ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন ভুক্তভোগী পাড়াবাসী।
মৌখিক
বিবরণে পাড়াবাসী তদন্ত কমিটিকে জানায়, জমি দখলের
উদ্দেশ্যে গত ১ জানুয়ারি গভীর
রাতে ছয় ট্রাকভর্তি লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে হামলা চালিয়েছে লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।
হামলাকালে ১১টি পরিবারের রেংয়ানপাড়ার নারী, শিশুসহ সবাই
এক কাপড়ে জঙ্গলে লুকিয়ে নিজেদের রক্ষা করে।
সে সময় তিনটি নতুন ঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়।
পাঁচটি ঘর ভেঙে ফেলা হয়।
হামলাকারীরা ফিরে যাওয়ার সময় ম্রো জনগোষ্ঠী গবাদিপশুসহ মালপত্র লুটে নিয়ে যায়।
তদন্ত
কমিটিকে পাড়াবাসী আরো জানান, এর আগে
২০১৬ সালে ডলুছড়ি মৌজার তিন আদিবাসী পাড়ার জুম ভূমি ইজারা নেয়া হয়েছে দাবি করে লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।
চুক্তির শর্তে লিজ নেয়া ভূমির কোনো সীমানা পিলার নেই।
ইজারা দাবির জেরে গত বছরের ২৬ এপ্রিল রেংয়ানপাড়া, লাংকমপাড়া ও জয়চন্দ্রপাড়াবাসীর প্রায় ৪০০
একর জুম ভূমির ফসল পুড়িয়ে দেয়া হয়।
ওই ঘটনার পর বছরজুড়ে ভয়াবহ খাদ্য সংকটে পড়ে তিন পাড়াবাসী।
কয়েক মাস পর রেংয়ানপাড়াবাসীর পানির একমাত্র উৎস কালাইয়া ঝিরিতে বিষ ঢেলে জলজ পরিবেশ ধ্বংস করা হয়।
ঘটনাস্থলে
পাড়াবাসীর বিবরণ শেষে সরই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইদ্রিছের
মতামত নেয় তদন্ত দল।
তদন্ত
দলের সদস্য ও কমিশনের পরিচালক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. আশরাফুল
আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত
এপ্রিল থেকে এখানে ভূমি নিয়ে এ বিরোধ চলছে। এ বিষয়ে
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রথম থেকেই সোচ্চার ছিল।
আমরা শঙ্কা করেছিলাম এ ভূমি বিরোধ
থেকে এখানে আইনশৃঙ্খলা পরস্থিতির অবনতি হতে পারে।
এজন্য আমরা একাধিক সুপারিশ ও নির্দেশনা দিয়েছিলাম। সেটা সঠিকভাবে
পালিত হলে আজ এ অবস্থা হয়তো
আমাদের দেখতে হতো না।’










