কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, দেশে আজ খাদ্যঘাটতি নেই, সংকট নেই, হাহাকার নেই। সুতরাং হাওরের কৃষকরা না খেয়ে থাকবেন না। হাওরের কৃষক আজ প্রকৃতির কাছে অসহায়। তবে ফসলহারা কৃষকের পাশে সরকার সব সময় থাকবে। আগামী বোরো মৌসুম পর্যন্ত হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা প্রণোদনা পাবেন। আগামী বোরোতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ, সার দেয়া হবে। আমরা সেই ব্যবস্থা করব।
গতকাল সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার চাপতির হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ ও বোরো ধান খেত পরিদর্শনকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, হাওরে ১২-১৪ লাখ টন ধান হয়, যা দেশের খাদ্যনিরাপত্তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এ ধান খুবই ঝুঁকিপূর্ণ, কোনো কোনো বছর আগাম বন্যার কারণে নষ্ট হয়ে যায়। এ ঝুঁকি কমাতে ১৫-২০ দিন আগে পাকে এমন জাতের ধান চাষে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে বিজ্ঞানীরা অনেকগুলো জাত উদ্ভাবন করেছেন। এসব জাত চাষে কৃষকদের এগিয়ে আসতে হবে। হাওরের বিস্তীর্ণ জমিতে বছরে মাত্র একটি ফসল বোরো ধান হয়। এ ফসলের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করতে হবে, সেজন্য উচ্চফলনশীল জাতের ধান যেমন ব্রিধান ৮৯, ব্রিধান ৯২ এবং বিনাধান ১৭ চাষ করতে হবে।
পরিদর্শনকালে কৃষি সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম, সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বেনজীর আলম, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক শাহজাহান কবীর উপস্থিত ছিলেন। পরে কৃষিমন্ত্রী সদর উপজেলার জাওয়ার হাওরে স্বল্প জীবনকালীন আগামজাত বিনাধান ১৭ এবং উচ্চফলনশীল ব্রিধান ৮৯ কর্তন ও কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এ সময় তিনি ধান কাটার উদ্বোধন করেন ও ধান কাটার যন্ত্র ‘কম্বাইন হারভেস্টার ও রিপার’ কৃষকের মধ্যে বিতরণ করেন।










