রুটে বাস চলাচলের ট্রিপ বৃদ্ধি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে খুলনা-কুষ্টিয়া রুটে সরাসরি বাস চলাচল গতকাল বন্ধ ছিল। শুক্রবার এ রুটে বাস ধর্মঘট ডাকা হয়। গতকালও খুলনা থেকে ছেড়ে আসা কোনো বাস কুষ্টিয়া পর্যন্ত আসেনি। বাসগুলো ঝিনাইদহ থেকে খুলনায় ফিরে যায়। ফলে দ্বিতীয় দিনের মতো খুলনা-কুষ্টিয়া রুটের যাত্রীরা অন্তহীন ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। 

কুষ্টিয়া জেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সভাপতি আক্তারুজ্জামান বলছেন, ‘সমস্যার শুরু হয়েছে ঝিনাইদহ থেকে। তাই সমস্যার সমাধান ওই জেলার বাস মালিকদেরই করতে হবে। কুষ্টিয়া-খুলনা রুটে চলাচলকারী ৩৬টি গাড়ির মধ্যে ১৫টিই ঝিনাইদহের মালিকদের। কুষ্টিয়া জেলার হাইওয়ে কম। পূর্বে খোকসা, পশ্চিমে খলিসাকুন্ডি ও ভেড়ামারা লালনশাহ্ ব্রিজ এবং দক্ষিণে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট। এর পরও সাধারণ মানুষের স্বার্থে তারা মেনে নিয়ে পরিবহন চালিয়ে আসছিলেন।’

তিনি জানান, হঠাৎ ঝিনাইদহের বাস মালিকরা খুলনা-কুষ্টিয়া রুটে তাদের জন্য আরো ট্রিপ দাবি করেন। এমনকি তারা বেশ কিছুদিন তাদের মালিকানাধীন বাসের জন্য কুষ্টিয়া থেকে ফরিদপুর রুটেও নতুন ট্রিপ চাচ্ছেন। তখন কুষ্টিয়ার বাসমালিকরা বাধ্য হয়েই ফরিদপুর রুটে ট্রিপ বাড়ানোর দাবি করেন।

তিনি আরো বলেন, ‘দাবি না মানায় ৩ এপ্রিল থেকে ঝিনাইদহের মোটর-শ্রমিকরা কুষ্টিয়ার বাস ওই জেলার ওপর দিয়ে চলতে দিবে না বলে ঘোষণা দেয়। কিন্তু তাদের দাবি মানলে তো আমাদের বাস গুটিয়ে ঘরে বসতে হবে। তবু বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসা হয়। সেখানেই বাসের স্টাফদের মারধর করা হয়েছে। এরই প্রতিবাদে আমরা বাস ধর্মঘটের ডাক দিয়েছি। মারধরের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত আমরা সড়কে ফিরব না।’

এদিকে ঝিনাইদহ জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান ট্রিপ বৃদ্ধির দাবির বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তিনি নিরসন সভায় মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেন।

এদিকে টানা দুইদিন কুষ্টিয়া-খুলনা রুট সরাসরি বাস চলাচল বন্ধ থাকায় সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হতে হয় যাত্রীদের। গতকাল সকালে কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর বাস ডিপো থেকে বিভিন্ন রুটে যাওয়ার জন্য যাত্রীরা ভিড় করলেও যানবাহন না থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেছেন। পরে ভিন্ন পন্থায় বেশি খরচ সাপেক্ষে অনেকে গন্তব্যে যাত্রা করলেও সাধারণ মানুষ কোনো উপায় পাচ্ছে না।

কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম জানান প্রশাসন চেষ্টা করছে বিষয়টি নিরসনের।