ঘাট দখলকে কেন্দ্র করে পাবনার বেড়া পৌরসভার বর্তমান ও সাবেক দুই মেয়রের সমর্থকের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পাঁচ পুলিশসহ অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন। আহত কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তাদের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বেড়া পৌর এলাকার বৃশালিখা জাহাজ ঘাট এলাকায় বর্তমান মেয়র আসিফ সামস রঞ্জন ও সাবেক মেয়র আব্দুল বাতেনের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রঞ্জন ও বাতেন সম্পর্কে আপন চাচা-ভাতিজা। পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকুর ছেলে আসিফ শামস রঞ্জন ও ভাই আব্দুল বাতেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ১০ বছর আগে বেড়া পৌর এলাকার বৃশালিখায় হুরাসাগর নদীতীরে অবৈধ নৌবন্দর গড়ে তোলেন তত্কালীন পৌরমেয়র আব্দুল বাতেন।

পরে বিআইডব্লিউটিএ ওই নৌবন্দর উচ্ছেদ করলেও পরবর্তী সময়ে আবারো ঘাটটি চালু করেন আব্দুল বাতেন। নৌবন্দরের পাশে শতাধিক দোকানঘর নির্মাণ করে ব্যবসা করে আসছিলেন বাতেন। বর্তমানে নির্বাচনী বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘাট ও দোকানপাট দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছেন রঞ্জন। বৃহস্পতিবার দুপুরের পরে রঞ্জনের সমর্থকরা দোকানপাটে তালা ঝুলিয়ে দেন। খবর পেয়ে বাতেনের সমর্থকরা তালা ভেঙে দোকানপাট খোলার চেষ্টা করেন।

এ সময় উভয়ের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। বিক্ষুব্ধরা পুলিশের একটি গাড়ি ভাংচুর করে। সংঘর্ষে পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৮ জন আহত হন।

বেড়া মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অরবিন্দ সরকার বলেন, বাতেন ও রঞ্জন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। বিকালে বৃশালিখা ঘাট এলাকায় দোকানপাট দখলকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষ মুখোমুখি সংষর্ষে লিপ্ত হয়। পুলিশ সদস্যরা দ্রুত সেখানে গাড়ি নিয়ে পৌঁছলে সাবেক মেয়র বাতেন গ্রুপের সমর্থকরা হামলা চালায়। এ ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ অনেকে আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে।