মাছের প্রজনন মৌসুম শুরু হওয়ায় ৬৫ দিনের জন্য সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর। গতকাল মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছে এ নিষেধাজ্ঞা। এ সময় মাছের প্রজনন ক্ষেত্রগুলোয় জাল ফেলা যাবে না। তারই ধারাবাহিকতায় সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন মিরসরাই উপজেলার জেলেরা। সাগরে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা মানতে উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময় দুই দফায় জেলেরা ৮৬ কেজি করে চাল পাবেন। এ জেলেদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, বর্তমান দুর্মূল্যের বাজারে এ বরাদ্দ অপ্রতুল।

উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মিরসরাইয়ে ২৯টি পাড়ায় নিবন্ধিত জেলে রয়েছে ২ হাজার ২৬ জন। আরো ৬০০ জেলের একটি তালিকা নিবন্ধনে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে তালিকাটি এখনো অনুমোদন পায়নি। ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার জন্য প্রত্যেক জেলে দুই দফায় ৮৬ কেজি চাল সহায়তা পাবেন। নিষেধাজ্ঞার সময় দুই অর্থবছরের মাঝামাঝি হওয়ায় চাল সহায়তাগুলো দুই দফা দেয়া হবে। এর মধ্যে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রথম দফায় ৫৬ কেজি ও দ্বিতীয় দফায় ৩০ কেজি চাল দেয়া হবে।

উপজেলার ডোমখালী ও সাহেরখালী জেলে পল্লী ঘুরে দেখা গেছে, সাগরপাড়ে সারি সারি নৌকা বাঁধা রয়েছে। জাল ও নৌকা মেরামত করে দিন শুরু করেছেন জেলেরা। অনেক জেলে সাগরে বেঁধে রাখা নৌকা পাহারা দিচ্ছেন। এ সময় কথা হয় কাঁলাচান জলদাশের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘‌আমার পরিবারে চারজন সদস্য রয়েছে। স্থানীয় একটি এনজিও সংস্থা থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে জাল কিনেছি। কিন্তু সরকার ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে চিন্তায় পড়েছি। তাই দৈনিক ৩০০ টাকায় অন্যজনের কাছ থেকে একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা ভাড়া নিয়ে অর্থ জোগানের চেষ্ট করছি।’

জানা গেছে, ডোমখালী জেলেপল্লীতে শতাধিক জেলে পরিবার রয়েছে। এসব পরিবারে প্রায় দেড় হাজার বাসিন্দা বসবাস করে। যারা শুধু সাগরে মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল।

স্থানীয় রাজু জলদাশ বলেন, ‘আমার পরিবারে পাঁচজন সদস্য রয়েছে। আগে সাগরে জাল ফেলে দৈনিক ২০০০-৩০০০ টাকা আয় হতো। এছাড়া স্থানীয় দুটি এনজিও থেকে ৭০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছি। প্রতি সপ্তাহে ২ হাজার ১০০ টাকা কিস্তি দিতে হয়। সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় কীভাবে কিস্তি পরিশোধ করব ভেবে পাচ্ছি না।’

সাহেরখালী ঘাটের জেলে হরিপদ জলদাশ জানান, জেলেরা দাদন ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে নতুন নৌকা ও জাল কিনে থাকেন। পরে মাছ বিক্রি করে ঋণের টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু সরকার ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় জেলেরা কিস্তির টাকা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা নাসিম আল মাহমুদ জানান, ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা পালনে জেলে পল্লীগুলোয় মাইকিং করা হয়েছে। প্রত্যেক জেলে পরিবারকে দুই দফায় ৮৬ কেজি চাল সহায়তা দেয়া হবে।