সমস্যায় জর্জরিত ঠাকুরগাঁও বিসিক শিল্পনগরীতে দীর্ঘ ৩৩ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। গড়ে ওঠেনি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো। প্রতি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে এ শিল্পনগরী। জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ অব্যবস্থাপনা ও যাতায়াতের অসুবিধার কারণে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন উদ্যোক্তারা।
১৯৮৭ সালে ১৫ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় ঠাকুরগাঁও বিসিক শিল্পনগরী। জুটমিল, আটা-ময়দা, সাবান, প্লাস্টিক সামগ্রীসহ ছোট ও মাঝারি বেশকিছু প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে এ শিল্পনগরীতে। কিন্তু প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাব, অপ্রতুল যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জলাবদ্ধতাসহ নানা সীমাবদ্ধতার কারণে ৫৩টি শিল্প ইউনিটের বিপরীতে ১০৫টি প্লট বরাদ্দ হলেও অনেক প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। এখনো ফাঁকা রয়েছে অনেক প্লট। অর্থের অভাবে ১২ জন উদ্যোক্তা তাদের প্রতিষ্ঠান ধরে রাখতে পারেননি। চড়া সুদ, চাহিদামতো ব্যাংকঋণ না পাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে লোকসানে পড়ছেন এখানকার উদ্যোক্তারা।
বিসিক শিল্প নগরীর উদ্যোক্তা মাহবুব জানান, রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে। রাস্তা ভাঙার কারণে এখানে ট্রাক নিয়ে আসতে চান না চালকরা। কেউ কেউ এলেও তাদের অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হয়।
ব্যবসায়ী আনোয়ার জানান, এখানে ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। বর্ষা মৌসুমে রাস্তায় কোমরপানি জমে। আমরা অনেক অভিযোগ করেছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। এভাবে ব্যবসা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা চাই অবিলম্বে কর্তৃপক্ষ আমাদের সমস্যাগুলো সমাধান করুক।
ব্যবসায়ী একরামুজ্জামান জানান, ঢিলেঢালা নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে শিল্প এলাকায় বাড়ছে চুরি ও চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য। এখানে নিরাপত্তাপ্রাচীর প্রয়োজন। এছাড়া ব্যবসায়ীদের সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ব্যাংকঋণ প্রয়োজন। উদ্যোক্তাদের চড়া সুদে ব্যাংকঋণ নিতে হয়। এতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আবার অনেকে পাননি প্রণোদনার টাকা।
ঠাকুরগাঁও চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক সাহারিয়ার মাহাবুব শাওন চৌধুরী বলেন, আমরা অবিলম্বে বিসিক শিল্প নগরীর সব সমস্যার সমাধান চাই। তা না হলে ব্যবসায়ীদের স্বার্থে আমরা কঠোর অবস্থানে যাব।
এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও বিসিক শিল্প নগরীর উপব্যবস্থাপক নুরোল হক জানান, শিগগিরই রাস্তা ও ড্রেনেজ নির্মাণের কাজ শুরু হবে। সমস্যা সমাধনে কাজ করছেন তারা। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে এবং শিল্প উদ্যোক্তাদের দাবির কথা বিবেচনায় রেখে শিগগিরই ঠাকুরগাঁও বিসিক শিল্প নগরীর উন্নয়ন করা হবে।










