চলতি মৌসুমে সিরাজগঞ্জের নয়টি উপজেলায় বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৭৫ হেক্টর জমি। এর বিপরীতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে ৮ হাজার ৯০ হেক্টর জমিতে। তবে ঘন কুয়াশার কারণে অধিকাংশ বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি কৃষকদের। এতে বোরো উৎপাদনের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে আশঙ্কাও করছেন তারা।
তবে কৃষি বিভাগ বলছে, কুয়াশায় বীজতলা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ পর্যন্ত জেলায় ২ দশমিক ৭ হেক্টর জমির বীজতলায় সমস্যা হয়েছে। তবে নিয়ম মেনে সঠিক পরিচর্যা করলে বীজতলা নিয়ে শঙ্কার কোনো কারণ নেই। এর কারণে বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কোনো প্রভাব পড়বে না।
কৃষকদের দাবি, চলতি মৌসুমে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সিরাজগঞ্জে ঘন কুয়াশার কারণে বীজতলার ক্ষতি হয়েছে। চারাগুলো হলুদ ও ফ্যাকাসে বর্ণ ধারণ করেছে। চারা রক্ষায় আগাছা পরিষ্কারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত সেচ ও পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখাও হয়।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মশকর আলী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শীত ও কুয়াশায় বোরো বীজতলা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বীজতলার চারা হলদে হলে প্রতি বর্গমিটারে সাত গ্রাম ইউরিয়া ও ফ্যাকাসে বা সবুজভাব কম থাকলে প্রতি বর্গমিটারে ১০ গ্রাম জিপসাম প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়া বীজতলার প্রয়োজনে প্রতি শতকে ১৫০ গ্রাম এমওপি ও ২০০ গ্রাম টিএসপি সারের সঙ্গে ৪০০ গ্রাম জিপসাম সার মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে। মূলত চারা গাছের শীত সহিষ্ণুতা বাড়াতে এ পদ্ধতি অনেকটা কার্যকর। চারা রোপণের পর কুয়াশা শুরু হলে জমিতে ৫-৭ সেন্টিমিটার পানি ধরে রাখতে হবে।’










