চট্টগ্রামে তুমুল টানা বৃষ্টিপাতের মধ্যেই
বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছেন আন্দোলনকারীরা। শুক্রবার (২ আগস্ট) দুপুরে তাদের সঙ্গে
যোগ দেয় সাধারণ মানুষও। বিকেলে প্রেসক্লাব চত্বরে ‘ছাত্রদের পাশে মা’ শিরোনামে সমাবেশ
ও মিছিল করেছে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। বৃষ্টি উপেক্ষা করে শতশত
ছাত্র, অভিভাবক, শিক্ষক ও বিভিন্ন পেশাজীবীরা সমাবেশ ও মিছিলে অংশ নেন।
জুমার নামাজের পর নগরীর আন্দরকিল্লা শাহী
জামে মসজিদের সামনে জড়ো হতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। সেখানে জমায়েত শেষে মিছিল নিয়ে লালদীঘি
ময়দান হয়ে নিউমার্কেট মোড়ের দিকে অগ্রসর হন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। নিউমার্কেট মোড়ে
প্রায় ৩০ মিনিট বিক্ষোভ সমাবেশ ও স্লোগান দিয়ে রেলওয়ে স্টেশন এলাকার দিয়ে টাইগারপাস
এলাকায় অবস্থান নেন তারা। সেখান থেকে মিছিলটি লালখান বাজার হয়ে জিইসি মোড়ের দিকে যাওয়ার
সময় ওয়াসা মোড় এলাকায় ছাত্রলীগের কর্মীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের
ঘটনা ঘটে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র
আন্দোলন, চট্টগ্রামের অন্যতম সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি প্রার্থনা ও ছাত্র জনতার
গণমিছিলের ডাক দেন। ঘোষণায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, আইনজীবী, ডাক্তার, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিকর্মী,
গণমাধ্যমকর্মী, মানবাধিকারকর্মী, আলেম-ওলামা, শ্রমিক, অভিভাবকসহ চট্টগ্রামের সর্বস্তরের
নাগরিককে অংশ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়। ওই আহ্বানে সাড়া দিয়ে হাজারো মানুষ তাদের মিছিলে
অংশ নেন। এ সময় নারী শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য।
আন্দোলন ঘিরে আন্দরকিল্লা মোড়সহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ
মোড়গুলোতে ব্যাপক পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও সমাবেশ ও মিছিলে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো
বাধা দেয়া হয়নি। তবে লালখান বাজার ও নগরীর ওয়াসা মোড়ে ছাত্রলীগের কর্মীরা শিক্ষার্থীদের
বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পরে ছাত্রলীগের কর্মীরা
পালিয়ে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। এ সময় পুলিশের একটি সাঁজোয়া যান দেখে ছাত্রদের
মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলে তারা যানটিকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুঁড়লে পুলিশ
পিছু হটে যায়। এছাড়া ‘বীর চট্টলার সর্বস্তরের উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা’ ব্যানারে আয়োজিত
সমাবেশ শেষে মিছিলটি চেরাগী পাহাড় হয়ে আন্দরকিল্লা দিয়ে কোতয়ালী মোড়ের দিকে চলে যায়।










