মাঙ্কিপক্স সংক্রমণ রোধে দিনাজপুরের হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে বাড়তি সতর্কতা নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে মেডিকেল টিম। যদিও এখন পর্যন্ত এ রোগের লক্ষণ রয়েছে এমন কোনো যাত্রী পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। ২০ আগস্ট এ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আফ্রিকার দেশ কঙ্গোয় প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর থেকে মাঙ্কিপক্স মহাদেশের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলীয় কয়েকটি দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বুরুন্ডি, উগান্ডা, রুয়ান্ডা, সুইডেন ও কেনিয়া। সম্প্রতি পাকিস্তানে মাঙ্কিপক্সে একজন আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মাঙ্কিপক্সের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, পেশিব্যথা, পিঠে ব্যথা, দুর্বলতা, লসিকাগ্রন্থি ফোলা ও ত্বকে ক্ষত সৃষ্টি হওয়া।

গতকাল হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে দেখা গেছে, চেকপোস্টে একটি বুথ স্থাপনের মাধ্যমে ভারত থেকে দেশে ফেরা যাত্রীদের তাপমাত্রা পরিমাপ, র‌্যাশসহ অন্যান্য উপসর্গ রয়েছে কিনা সেটি পরীক্ষা করে দেখছেন স্বাস্থ্য কর্মীরা। বিশেষ করে ভারত থেকে দেশে ফেরা পাসপোর্টধারী যাত্রীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়ার পরই তাদের গমনাগমনের অনুমতি দেয়া হচ্ছে।

ভারত থেকে দেশে ফেরা পুষ্পা রানী বলেন, ‘ইমিগ্রেশনে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই স্বাস্থ্যকর্মীরা আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। বিশেষ করে জ্বর আছে কিনা, কোনো ফুসকুড়ি আছে কিনা, র‌্যাশ আছে কিনা।’

আশরাফুল ইসলাম নামে আরেক যাত্রী বলেন, ‘সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাঙ্কিপক্স ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। পাকিস্তানেও রোগটি শনাক্ত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই আমাদের মাঝে একটু আতঙ্ক বিরাজ করছে।’

হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে স্থাপিত মেডিকেল বুথে কর্মরত উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘মাঙ্কিপক্সের নতুন ভ্যারিয়েন্ট সংক্রামণের আশঙ্কা থাকায় হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে মেডিকেল টিম কাজ শুরু করেছে। ভারত থেকে যাতে মাঙ্কিপক্স দেশে ছড়িয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। আমরা মূলত মাঙ্কিপক্সের যেসব লক্ষণ রয়েছে যেমন—যাত্রীদের তাপমাত্রা বেশি আছে কিনা, স্ক্যানারের মাধ্যমে সেটি পরিমাপ করা হচ্ছে। কারো শরীরে র‌্যাশ আছে কিনা, ফুসকুড়ি আছে কিনা, লসিকাগ্রন্থি ফুলে আছে কিনা সেটিও আমরা দেখছি। এখন পর্যন্ত এ রোগের লক্ষণ আছে এমন কোনো যাত্রী পাওয়া যায়নি। তবে কোনো যাত্রীর মধ্যে এ লক্ষণ পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তারা যে নির্দেশনা দেবে সে মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ আশরাফুল বলেন, ‘মাঙ্কিপক্সের সংক্রমণ রোধে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে মেডিকেল টিম কাজ করছে। ভারত থেকে পাসপোর্টধারী যাত্রী দেশে প্রবেশ করলে প্রথমেই মেডিকেল টিম তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে। তারা ছাড়পত্র দেয়ার পরই সেই যাত্রী ইমিগ্রেশনে আসছেন ও তার পাসপোর্টের কার্যক্রম সম্পন্ন করছেন। আমরাও এ বিষয়ে সতর্ক রয়েছি।’