টানা ১২ দিন বন্ধের পর বগুড়া রেলওয়ে স্টেশনে পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। গত ২০ জুলাই কোটা আন্দোলনকে ঘিরে নাশকতার ঘটনায় বগুড়া থেকে ঢাকা, লালমনিরহাট, সান্তাহারসহ সব রেলপথের ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে পুঁজি হারানোর আশঙ্কা করছে প্রায় ৩ হাজার ভ্রাম্যমাণ হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
সরকারি সিদ্ধান্তমতে, বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) দুটি ট্রেন দিনে একবার চালুর মধ্য দিয়ে আবারো ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় রেলযাত্রীদের সিএনজিচালিত অটো ও বাসে করে চলাচল করতে গিয়ে চার গুণ ভাড়া বাড়তি দিতে হচ্ছে। এ ঘটনায় বগুড়ার রেলপথে চলাচলকারীরা পরিপূর্ণভাবে ট্রেন চালুর দাবি জানিয়েছেন।
বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন সুত্রে জানা যায়, বগুড়া স্টেশন হয়ে ২৪ ঘণ্টায় পূর্ব ও পশ্চিমে ৮টি ট্রেন কমপক্ষে ১৬ বার যাত্রী নিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচল করে
থাকে। বগুড়া স্টেশন হয়ে চলাচলকৃত ট্রেনের মধ্যে রয়েছে পাঁচটি আন্তঃনগর, দুইটি মেইল এবং
একটি লোকাল ট্রেন। এই ট্রেনগুলোতে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন।
বগুড়া শহরে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসা করতে আসা আসাদুল হক নামের এক ব্যবসায়ী
জানান, তিনি প্রতিদিন ২০ টাকা করে টিকেট কেটে বগুড়ায় আলু ভাজা, বাদামভাজা বা ফল বিক্রি
করতে আসা যাওয়া করতেন। কিন্তু এখন সেখানে যাতায়াত করতে ১২০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। ট্রেনটি
চালু হলে আয় আরো বৃদ্ধি হতো।
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার খাইরুল হোসেন জানান, তিনি প্রতিদিন ৪০ টাকা
খরচ করে বগুড়া শহরে একটি বেসরকারি অফিসে চাকরি করেন। অফিস শেষ করে রাতের ট্রেনে বাড়ি
ফিরতেন। কিন্তু আন্দোলনে বন্ধ হয়ে যাওয়া ট্রেন না চলাচল করায় সিএনজি ভাড়া দিতে হচ্ছে
১৮০ টাকা। তাই ট্রেন দ্রুত চালু করার দাবি জানান তিনি।
এ ব্যাপারে বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সাজেদুর রহমান সাজু বলেন,
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুটি ট্রেন চলাচল করছে। এই দুটি ট্রেন দিনে একবার করে দুবার
চলাচল করবে। আপাতত স্থানীয়ভাবে চলাচল করছে। ধীরে ধীরে পরিপূর্ণভাবে ট্রেন চলাচল করবে।
সকালে ও সন্ধ্যার ট্রেনে প্রতিদিন চাপ থাকে। টিকিট না পেলেও দাঁড়িয়ে যেতে হচ্ছে যাত্রীদের।
তবে ধীরে ধীরে যাত্রী বাড়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২০ ও ২১ জুলাই কোটা আন্দোলনের সময় বগুড়া রেলওয়ে স্টেশনে ব্যাপক হামলা চালানো হয়। এ সময় হামলাকারীরা লাঠি সোটা দিয়ে স্টেশনে তাণ্ডব চালায়। গ্লাস, টিকিট কাউন্টারসহ স্টেশন মাস্টারের রুমের সামনে পর্যন্ত ভাংচুর করে। খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।










