বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। এতে ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১৫ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। তাদের মধ্যে ১২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় ঘটে এ ঘটনা। এসময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাদের ওপর কয়েক দফা হামলা চালান বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

দলটি বলছে, হামলায় তাদের ১৫ জনের নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন।  আহতরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, গণস্বাস্থ্য মেডিকেল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তবে ছাত্রলীগ বলেছে, একদল ক্রীড়ানুরাগী শিক্ষার্থীর আনন্দ-মিছিলে ছাত্র অধিকারের নেতা-কর্মীরা হামলা করেছেন৷ পরে শিক্ষার্থীরা এর পাল্টা জবাব দিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, আজ টিএসসিতে ছাত্র অধিকার পরিষদের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হওয়ার কথা ছিল। সেই কর্মসূচি করতেই বেলা ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে মিছিল নিয়ে টিএসসিতে আসেন ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। তাদের আসার খবর পেয়ে আগেই টিএসসি এলাকায় অবস্থান নেয় ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মী। তারা ছাত্র অধিকারের নেতাকর্মীদের সামনে ও পাশে অবস্থান নেন। এ সময় ছাত্র অধিকারের নেতাকর্মীরা ডাস ক্যাফেটেরিয়া সংলগ্ন সড়কে দাঁড়িয়ে নিজেদের সংগঠনের নামে স্লোগান দিতে থাকেন। হঠাৎ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ‘কুমিল্লা, কুমিল্লা’ বলে স্লোগান শুরু করেন। 

একপর্যায়ে তারা ছাত্র অধিকারের নেতা-কর্মীদের মারধর শুরু করেন। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনেও ছাত্র অধিকারের নেতা-কর্মীদের মারধর করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। গণ অধিকার পরিষদের গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ গণমাধ্যমকে বলেন, ছাত্রলীগ ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের ওপর দুই দফায় হামলা করে। প্রথমে রাজু ভাস্কর্যের সামনে, পরে কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে। এতে ১৫ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান বলেন,  আজ সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল ক্রীড়ানুরাগী শিক্ষার্থী টিএসসিতে কুমিল্লার পক্ষে আনন্দমিছিল করছিলেন। এ মিছিল দেখে নাকি ছাত্র অধিকারের নেতাকর্মীরা ক্রীড়ানুরাগী শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা করেন। শিক্ষার্থীরা এর পাল্টা জবাব দিয়েছেন। ক্রীড়ানুরাগী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রলীগেরও কয়েক কর্মী ছিলেন। তবে ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে নয়, তারা সেখানে গেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের সমর্থক হিসেবে।