ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির অভিযোগে দশজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
শুক্রবার (১৪ জুন) সকালে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার
করা হয়।
টিকিট কালোবাজারির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা শেষে র্যাব-৩ এর অধিনায়ক
লে. কর্নেল ফিরোজ কবির বলেন, বেশ কিছু দুষ্কৃতকারী ও টিকিট কালোবাজারি চক্রের দৌরাত্ম্যে
স্বস্তিকর রেলভ্রমণের টিকিট সাধারণ জনগণের জন্য অস্বস্তি, চিন্তা ও ভোগান্তির কারণ
হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনলাইন বা রেল স্টেশনের টিকিট কাউন্টারে টিকিট পাওয়া না গেলেও বেশি
মূল্যে কালোবাজারে টিকিট বিক্রি হচ্ছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, কালোবাজারিরা
সংঘবদ্ধভাবে দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ের প্রায় সব ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি করে আসছিল। রেলওয়ের
টিকিট বুকিংয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়ে টিকিট কালোবাজারি
করত। বিশেষ করে ঈদ, পূজা, সাপ্তাহিক ছুটিসহ বিশেষ ছুটির দিনকে উপলক্ষ বানিয়ে তারা এ
কারসাজিতে জড়িত থাকে। তাদের সঙ্গে বিভিন্ন স্টেশনের অসাধু কর্মচারী ও টিকিট কাউন্টারম্যান ২-৩ হাজার রেলওয়ের টিকেট কালোবাজির মাধ্যমে বিক্রি করত। তারা আসন্ন ঈদুল আজহার
আগেই অধিক সংখ্যক টিকিট সংগ্রহের পরিকল্পনা করছিল।
তিনি বলেন, কালোবাজারিরা বিভিন্ন কৌশলে ট্রেনের টিকিট অগ্রিম সংগ্রহ
করে অবৈধভাবে নিজেদের কাছে মজুদ রাখে। পরে কৌশলে সাধারণ যাত্রীদের কাছে দুই-তিন গুণ
বেশি দামে বিক্রি করে। টিকিটের এসব নৈরাজ্য বন্ধে অভিযান শুরু করে র্যাব। চক্রের মূলহোতাসহ
১০ জন সক্রিয় সদস্যকে বিপুল সংখ্যক ট্রেনের টিকিটসহ গ্রেফতার করা হয়েছে।
ফিরোজ কবির জানান, রাজধানীর কমলাপুরে অভিযান চালিয়ে দেশব্যাপী ট্রেনের
টিকিট কালোবাজারি চক্রের সদস্য সোহেল রানা, মাহবুবুর রহমান, বকুল হোসেন, শিপন আহমেদ,
মো. আরিফ, শাহাদাত হোসেন, মনির, শিপন চন্দ্র দাস, মনির আহমেদ ও রাজা মোল্লাকে গ্রেফতার
করা হয়। তাদের কাছ থেকে ট্রেনের বিপুল পরিমাণ টিকিট, ১০টি মোবাইল ফোন, সিমকার্ডসহ কালোবাজারির
বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।










