রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বাদীপক্ষের হামলায় আব্দুল লতিফ শেখ (৭৬) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশের অভিযানে পালানোর সময় এ হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত লতিফ শেখ গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের উত্তর চর পাঁচুরিয়া গ্রামের মৃত মো. নাটোর শেখের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে কয়েক মাস আগে আব্দুল লতিফ শেখ ও তার ভাই আব্দুল কুদ্দুস শেখের মধ্যে মারামারি হয়। ওই ঘটনায় বাদী হয়ে মামলা করেন আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে আনোয়ার হোসেন শেখ। মামলায় আদালত থেকে জামিন নেন আব্দুল লতিফ শেখ ও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা। কিন্তু মামলার নির্ধারিত তারিখ না জানায় আদালতে হাজির ছিলেন না আসামিরা। এতে পুনরায় আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশের একটি দল আসামিদের বাড়িতে যায়। এ সময় আসামি আব্দুল লতিফের ভাই ইছাক শেখ ও ভাতিজা সবুজ শেখকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বিষয়টি বুঝতে পেরে আব্দুল লতিফ শেখ বসতঘর থেকে বের হয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় বাদীপক্ষের তিন-চারজন তাকে ধাওয়া দেন। এরপর পুলিশ চলে গেলে আব্দুল লতিফের পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে থাকেন। এ সময় বাড়ি থেকে একটু দূরে দেখতে পান আব্দুল লতিফ আহত হয়ে পড়ে আছেন। তাদের চিত্কারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে আব্দুল লতিফকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত আব্দুল লতিফের স্ত্রী সহিতন বিবি জানান, তার স্বামী পুলিশের ভয়ে ঘর থেকে পালিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় আমার সামনে প্রতিপক্ষ তাকে ধাওয়া দেয়। পরে তাকে ধরে মারধর করে হত্যা করেছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত আনোয়ারের বাড়িতে গিয়ে তাদের পাওয়া যায়নি। এ সময় তার স্ত্রী রোজিনা বেগম জানান, তারা কোথায় গেছে তিনি জানেন না। তারা কাউকে মারেননি।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদার জানান, দুই আসামিকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসার পর ওখানে একটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।