কৃষি গুচ্ছের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় আবেদনের সময় প্রবাসী কোটায় টিক দিয়ে বিপাকে পড়েছে বেশ কয়েকজন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী। মেধা তালিকায় সামনের দিকে থাকলেও কোটায় টিক দেয়ার কারণে কর্তৃপক্ষের বেঁধে দেয়া একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে বাধ্য করা হচ্ছে তাদের। যদিও সাধারণ মেধা তালিকার অবস্থান দিয়েই গুচ্ছের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার কথা ওই শিক্ষার্থীদের।

এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো কৃষিবিজ্ঞান বিষয়ে ডিগ্রি প্রদানকারী সাতটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এসব বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি), শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি), চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু), সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সিকৃবি), খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (খুকৃবি), পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। এ সাত বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বমোট ৩ হাজার ৪১৯টি আসনের বিপরীতে ভর্তি পরীক্ষায় আয়োজন করা হয়।

মুক্তিযোদ্ধা, উপজাতি, পোষ্য, দলিত, হরিজন, বিকেএসপি ও প্রবাসী—বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে এমন বিভিন্ন কোটায় আবেদনের সুযোগ রাখা হয় কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষার নির্দেশিকায়। দেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও এ ধরনের কোটায় ভর্তির সুযোগ রাখা হয়। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, মেধা তালিকায় এগিয়ে থাকলেও কোটার সুবিধা না নিয়েই শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দের বিষয় বা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পায়। আর কোটার সুযোগ নিতে চাইলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে সেটিও নিতে পারে। অর্থাৎ সাধারণ মেধা তালিকায় এগিয়ে থাকলে দুই উপায়েই ভর্তির সুযোগ পায় শিক্ষার্থীরা। তবে কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষায় প্রবাসী কোটায় টিকচিহ্ন দিয়ে বেকায়দায় পড়েছে সাধারণ মেধা তালিকায় এগিয়ে থাকা শিক্ষার্থীরা। কারণ গুচ্ছের সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শুধু পবিপ্রবিতে প্রবাসী কোটা থাকায় এ কোটায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার কথা বলছে আয়োজকরা। অন্যান্য কোটার ক্ষেত্রেও একই সমস্যায় পড়েছে শিক্ষার্থীরা।

এদিকে জটিলতা কাটিয়ে সাধারণ মেধা তালিকায় অবস্থানের ভিত্তির সুযোগ চেয়ে সম্প্রতি ভর্তি কমিটির কাছে লিখিত আবেদন করেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। আবেদনে তারা বলেছেন, প্রবাসী সংক্রান্ত যথেষ্ট তথ্য ও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকার কারণে আমরা সাধারণ মেধা তালিকায় থেকেও ভর্তির বিষয় নির্ধারণ ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারণে বাধার সম্মুখীন হচ্ছি। আমরা প্রবাসী কোটাসংক্রান্ত জটিলতা থেকে মুক্ত করে সাধারণ মেধাক্রমের ভিত্তিতে ভর্তি হওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

যদিও ভর্তিচ্ছুদের আবেদন আমলে নেয়ার সুযোগ নেই বলছে ভর্তি কমিটি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ভর্তি কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. গিয়াসউদ্দিন মিয়া বণিক বার্তাকে বলেন, তারা যেহেতু ভর্তি আবেদনের সময় প্রবাসী কোটায় আবেদন করেছে। এজন্য তাদের আবেদন কোটার আবেদন হিসেবেই গৃহীত হয়েছে। যেহেতু প্রবাসী কোটা একটি মাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে। তাহলে তাদের সেখানেই ভর্তি হতে হবে।

তবে ভর্তি কমিটির এ সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই ন্যায়সংগত নয় বলে মনে করেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর। জানতে চাইলে বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থী যদি মেধা তালিকায় এগিয়ে থাকে ও মেধার ভিত্তিতে ভর্তি হতে চায়, তাহলে তাকে অবশ্যই মেধার ভিত্তিতে ভর্তির সুযোগ দিতে হবে। সেটি না করে কর্তৃপক্ষের চাপিয়ে দেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে বাধ্য করা অন্যায়। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ই এ ধরনের স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সব ধরনের বিবেচনায় এখানে শিক্ষার্থীর অধিকার খর্ব করা হচ্ছে।

এ বছর কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২৭ নভেম্বর। পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ১ ডিসেম্বর। এরপর ৯ ডিসেম্বর পুনরায় সংশোধিত ফল প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ।