ঝিনাইদহে রোপা আমন মৌসুমের শুরুতেই দেখা দিয়েছে মাজরা পোকার আক্রমণ। সদ্য রোপণ করা চারাগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কীটনাশক ব্যবহার করেও নিয়ন্ত্রণে আসছে না এ পোকা। এতে উৎপাদন খরচ যেমন বেড়ে যাচ্ছে, তেমনি ফলন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন চাষীরা।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, মাজরা পোকা এক ধরনের কীট, যা ধানের প্রধান শত্রু হিসেবে বিবেচ্য। এ পোকা ধানগাছের কাণ্ডে ঢুকে কাণ্ডকে নষ্ট করে ফেলে। ফলে ধানের ফলন কমে যায়। মাজরা পোকার আক্রমণে ফলন কমে যায় ১৩-২৬ শতাংশ। তবে ব্যাপক আক্রমণ হলে ৩০-৭০ শতাংশ পর্যন্ত ফলনের ঘাটতি হতে পারে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি মৌসুমে ঝিনাইদহের ছয় উপজেলায় ১ লাখ ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৬৪ হাজার ১৩৯ টন।

স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, শৈলকুপা, সদর, কালীগঞ্জ, হরিণাকুণ্ডু, মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর সব উপজেলায়ই একই অবস্থা। ধান গাছের গোড়ায় আক্রমণ করছে মাজরা পোকা। এতে অনেক গাছ শুকিয়ে সাদা হয়ে যাচ্ছে। ব্যাহত হচ্ছে ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি। বারবার কীটনাশক স্প্রে করেও কার্যকর ফল পাওয়া যাচ্ছে না। মৌসুমের শুরুতেই পোকার এমন আক্রমণ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

শৈলকুপা উপজেলার নাকোইল গ্রামের কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, ‘ধান রোপণের পর থেকে নিয়মিত যত্ন নিচ্ছি। কিন্তু মাজরা পোকার আক্রমণে অনেক গাছ মরে যাচ্ছে। আমরা যতবার কীটনাশক ব্যবহার করছি, তত খরচ বাড়ছে। তবে ভালো ফল পাচ্ছি না। যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে সব শেষ হয়ে যাবে।’

একই এলাকার কৃষক সাইদুর রহমান জানান, ধানের গোড়ায় পোকা ঢুকে গাছকে সাদা করে দিচ্ছে। অনেক টাকা খরচ করেছি কীটনাশকে, কিন্তু কাজ হয়নি। ফলন কম হলে ঋণ শোধ করাই কঠিন হয়ে পড়বে।

কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ভরসাই হলো আমন ধান। কিন্তু মৌসুমের শুরুতেই যদি পোকা আক্রমণ করে, তাহলে আমরা কীভাবে বাঁচব? সরকারি দিকনির্দেশনা আর সহযোগিতা ছাড়া আমাদের সামনে অন্ধকার ছাড়া কিছু নেই।’

তবে শৈলকুপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘এখনো আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কৃষক যদি আমাদের নির্দেশনা মেনে চলেন, তাহলে পোকার আক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা এরই মধ্যে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। আমরা কৃষকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি।’

কোটচাঁদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন বলেন, ‘ধানে প্রতি বছরই মাজরা পোকার আক্রমণ হয়ে থাকে। তবে এ বছর তেমন আক্রান্ত হয়নি। যেসব জায়গা আক্রান্ত হয়েছে, সেখানে আমরা কাজ করছি। প্রতিষেধক হিসেবে আমরা চাষীদের ধানের জমিতে ডাল পুঁতে রাখার পরামর্শ দিচ্ছি। কারণ ধানের জমিতে উপকারী আর অপকারী পোকা উভয়ই থাকে। জমিতে ডাল পুঁতে রাখলে পাখি মাজরা পোকার ডিম খেয়ে ফেলে। এর পরও যদি পোকা নিয়ন্ত্রণে না আসে, সেক্ষেত্রে আমরা চাষীদের কীটনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দিয়েছি।’