বান্দরবান সদরের পর্যটন স্পট রূপালী ঝরনার একমাত্র পানির উৎস ম্রং ঝিরি। এ ঝিরিতে মত্স্য অধিদপ্তরের নাম ভাঙিয়ে নির্বিচারে পাহাড় কেটে ঝিরি ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে এসএম আইয়ুব নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অবৈধ পাহাড় কাটা ও ঝিরি ভরাট করায় তার বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের বান্দরবানের সহকারী পরিচালক। কিন্তু নির্দেশ অমান্য করে আইয়ুব প্রতিদিন এক্সক্যাভেটর দিয়ে পাহাড় কেটে ঝিরি ভরাট করছেন বলে আবারো অভিযোগ উঠেছে। এদিকে অন্যান্য বছরের তুলনায় বর্তমানে রূপালী ঝরনার পানি শুকিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বান্দরবান মত্স্য অফিস সূত্র জানায়, তিন পার্বত্য জেলায় মত্স্য অধিদপ্তরে ‘পার্বত্য
চট্টগ্রাম অঞ্চলে মত্স্য সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প’ নামের একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটির মেয়াদ রয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় ‘এসএম
আইয়ুবের জমিতে মত্স্য বাঁধ নির্মাণ’ নামে একটি স্কিম অনুমোদন হয়। ২০২১-২২ অর্থবছরে স্কিমটির জন্য টেন্ডারও হয়েছিল। টেন্ডারে স্কিমটি বাস্তবায়নের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসএম কনস্ট্রাকশন। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী পুরু কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা। এতে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১১ লাখ টাকা। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ওই অর্থ বছরের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাঁধ নির্মাণ করেনি। তাই বর্তমানে স্কিমটি মেয়াদোত্তীর্ণ। এছাড়া বর্ধিত মেয়াদ অনুমোদন ছাড়া কোনো স্কিমের কাজ করা অবৈধ। সম্প্রতি আইয়ুব নামের এক ব্যক্তি ওই স্কিমের নামে পাহাড় কেটে ঝিরিতে বাঁধ দিচ্ছেন। গত ২৭ ডিসেম্বর বণিক বার্তায় এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্টদের নজরে পড়ে। স্কিমটি মেয়াদোত্তীর্ণ বলে নিশ্চিত করেছেন এ প্রকল্পের প্রকৌশলী রিপন তালুকদার। তিনি সেলফোনে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘২০২১-২২ অর্থবছরেই স্কিমটির মেয়াদ শেষ হয়। গত ২৮ ডিসেম্বর মত্স্য অধিদপ্তর বান্দরবানের আহ্বায়ক ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য কাঞ্চন জয় তঞ্চঙ্গ্যার নেতৃত্বে জেলা ও উপজেলা অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমিও ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সে সময় সেখানে আইয়ুবও উপস্থিত ছিলেন। লে-আউট দেয়ার স্থান থেকে কয়েকশ ফুট উপরে এক্সক্যাভেটর দিয়ে পাহাড় কেটে ঝিরিতে মাটি ভরাট করা হয়েছে, যা প্রকল্পের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের বিপরীত। এজন্য পরিদর্শন টিম আইয়ুবকে তাত্ক্ষণিক কাজ বন্ধ করতে নির্দেশ দেয়। ’
নির্দেশ অমান্য করার বিষয়ে প্রকৌশলী রিপন তালুকদার গতকাল বণিক বার্তাকে বলেন,‘এসএম
কনস্ট্রাকশনের নামে আইয়ুব বিল দাবি করলেও কোনো বিল দেয়া হবে না। লে-আউটের বাইরে গিয়ে পাহাড় কেটে ঝিরি ভরাটের কাজটি প্রকল্পভুক্ত নয়।’
পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবানের সহকারী পরিচালক মো. ফখরউদ্দিন চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, পাহাড় কাটা ও ঝিরি ভরাটের বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট মামলা হয়েছে।
গত ২৯ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট ঘটনাস্থলে গিয়েছিল বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পত্রিকার
প্রতিবেদন দেখে বিষয়টি জেনেছি। ঘটনাস্থলে মোবাইল কোর্ট পাঠিয়েছি। সে সময় কাউকে পাওয়া যায়নি। একটি এক্সক্যাভেটর ছিল। পরিবেশ অধিদপ্তরে মামলা হয়েছে। এর পরও পাহাড় কাটা হলে আবারো মোবাইল কোর্ট পাঠানো হবে। ’










