বরিশাল নগরীর সাতটি খাল খনন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৩ লাখ টাকা। আগামী জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগেই আটটি স্থানে সড়কে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সড়ক রক্ষায় কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই খাল খননের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
এ ব্যাপারে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালিদ বিন ওয়ালিদ বলেন, ‘নগরীর সাতটি খালে আমাদের খনন কাজ চলছে। খনন কাজের জন্য যেসব স্থানে সমস্যা হয়েছে, সেগুলো আমরা সিটি করপোরেশনের সঙ্গে কথা বলে সমন্বয় করে নেব। আশা করি সমস্যা হবে না।’
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, নগরীর সাগরদী খালের নয় কিলোমিটার খননে বরাদ্দ ২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, রূপাতলী খালের এক কিলোমিটারের জন্য ২৮ লাখ, চাঁদমারি খালের দেড় কিলোমিটার খননে ৩২ লাখ, ভাটার খালের ১৬০ মিটার খননে ৪ লাখ, পলাশপুর খালের ১৭০০ মিটার খননে ১ কোটি ৩৫ লাখ, আমানতগঞ্জ খালের ২৫০০ মিটার খননে ১ কোটি ৯ লাখ টাকা ও জেল খালের দুই কিলোমিটার খননে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২৮ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। খনন কাজ শুরু হয়েছে ২০ ডিসেম্বর থেকে।
নগরীর নবগ্রাম এলাকার বাসিন্দা হারুন অর রশিদ বলেন, ‘সাগরদী খাল খননের কারণে ছয়টি স্থানে সড়ক ভেঙে খালের ভেতর পড়েছে। আমাদের উপকারের চেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইচ্ছামতো খাল খনন করার কারণে এ অবস্থা হয়েছে। তারা যদি সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করতো, তবে এ সমস্যা হতো না।’
তবে রূপাতলী খাল খননের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আল মামুন এন্টারপ্রাইজের পক্ষে বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর মো. জাকির হোসেন ভুলু বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমাদের খনন কাজ চলছে। খননের কারণে কিছু সড়কের ক্ষতি হয়েছে। তবে প্রকল্পের মধ্যেই পাড় বাঁধাইয়ের বিষয়টি আছে। আমরা পাড় বাঁধাই করার সময় সড়ক সংস্কার করে দেব।’
এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাইল হোসেন বলেন, ‘আমি ২৪ জানুয়ারি সিটি করপোরেশনে যোগ দিয়েছি। এরপর ঢাকায় ছিলাম। আজ আবার ঢাকায় যেতে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে পানি উন্নয়ন বোর্ড আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করেছে কিনা আমার জানা নেই। তবে আমি খোঁজ নিয়ে দেখব।’










